০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক ধসে নদীতে বিলীন, দুর্ভোগে কৃষকরা।

Oplus_131072

ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক ধসে নদীতে বিলীন, দুর্ভোগে কৃষকরা।

 

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারীর বাসিন্দা খোরশেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আক্কাস মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৩০০ মিটারের এক পাশের রাস্তা ধসে কংস নদে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এখানকার তিনটি ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারী গ্রামের সামনের সড়কের
খোরশেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আক্কাস মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৩০০ মিটার সড়কটি কংস নদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) উপজেলার কংস নদে খনন কার্যক্রম শুরু করলে সড়কটিতে ভাঙন দেখা দেয়।
২০১৭ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে এডিপির অর্থায়নে লামামেউহারী গ্রামের ব্রিজ থেকে একটু উত্তর দিকে ঘুরিয়ে একটি অস্থায়ী মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই সড়কের ৩০০ মিটারের এক পাশ ধসে কংস নদে বিলীন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটির ওপর দিয়ে যান চলাচল করা সম্ভব হয় না। এটির ওপর দিয়ে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। এ উপজেলার মানুষকে জেলা সদরে আসাযাওয়ার প্রধান সড়কও এটি। সড়কটির ওপর দিয়ে দৈনিক তিন শতাধিক
রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ঠেলাগাড়িসহ যানবাহন চলাচল করে। দিন দিন সড়কটি ভেঙে সরু হয় যাচ্ছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।
লামামেউহারী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ১০ বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছ দেখার কেউ নেই । এ সড়ক দিয়ে বোরো মৌসুমে হাওর থেকে ধান পরিবহন করে আনতে গিয়ে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কের ৩০০ মিটার পাকা স্থান কংস নদের পেটে চলে গেছে। সড়কটি পুনর্নির্মাণ করে পাকাকরণ ও প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
হলিদাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইকচালক মনু মিয়া (৪০) বলেন, সড়কটার উফরে দিয়া খালি গাড়ি চালাইয়া গেলেও বুকটা ধড়ফড় কইরা ওঠে। কহন যে এইডার কাম অইবো উফুর ওয়ালাই জানেন।
সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম তালুদার বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নেও সড়কের কিছু কাজ করেছি। এতে সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সড়কে বর্ষার আগেই কাজ করা না হলে কংস নদের ভাঙনে লামামেউহারী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতঘর ও গ্রামের শত শত বছরের পুরোনো কবরস্থানটি নদে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এবং কৃষকদের চলতি বোর মৌসুমের ধান এ রাস্তা দিয়ে আনা কোনভাবেই সম্ভব না।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন তালুকদার বলেন, সড়কটির ওপর দিয়ে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ আশপাশের উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। রাস্তাটি সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,৩০০ মিটারের মধ্য ৮০ মিটার জায়গায় আমরা জিও টিউব জিও ব্যাগ প্লেসিং ও ডাম্পিং করেছি।এবছর বাকি কাজ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান,বরাদ্দ নেই তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ আসলে বাকি কাজটুকু করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, এই রাস্তাটি নদীর পাশে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তাটি সংরক্ষণ করে অনুমতি দিলে আমরা কাজ করতে পারব। এছাড়াও এলজিইডির হাওরাঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ সড়ক পাকাকরণ, মাটি ভরাট ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের নির্মাণকাজের প্রাক্কলন তৈরি করে তা প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

​জলঢাকায় পৌর হাটবাজারের পুনরায় উম্মুক্ত ইজারা দাবিতে মানববন্ধন।

ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক ধসে নদীতে বিলীন, দুর্ভোগে কৃষকরা।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক ধসে নদীতে বিলীন, দুর্ভোগে কৃষকরা।

 

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারীর বাসিন্দা খোরশেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আক্কাস মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৩০০ মিটারের এক পাশের রাস্তা ধসে কংস নদে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এখানকার তিনটি ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারী গ্রামের সামনের সড়কের
খোরশেদ মিয়ার বাড়ি থেকে আক্কাস মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৩০০ মিটার সড়কটি কংস নদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) উপজেলার কংস নদে খনন কার্যক্রম শুরু করলে সড়কটিতে ভাঙন দেখা দেয়।
২০১৭ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে এডিপির অর্থায়নে লামামেউহারী গ্রামের ব্রিজ থেকে একটু উত্তর দিকে ঘুরিয়ে একটি অস্থায়ী মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই সড়কের ৩০০ মিটারের এক পাশ ধসে কংস নদে বিলীন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটির ওপর দিয়ে যান চলাচল করা সম্ভব হয় না। এটির ওপর দিয়ে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। এ উপজেলার মানুষকে জেলা সদরে আসাযাওয়ার প্রধান সড়কও এটি। সড়কটির ওপর দিয়ে দৈনিক তিন শতাধিক
রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ঠেলাগাড়িসহ যানবাহন চলাচল করে। দিন দিন সড়কটি ভেঙে সরু হয় যাচ্ছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।
লামামেউহারী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ১০ বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছ দেখার কেউ নেই । এ সড়ক দিয়ে বোরো মৌসুমে হাওর থেকে ধান পরিবহন করে আনতে গিয়ে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কের ৩০০ মিটার পাকা স্থান কংস নদের পেটে চলে গেছে। সড়কটি পুনর্নির্মাণ করে পাকাকরণ ও প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
হলিদাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইকচালক মনু মিয়া (৪০) বলেন, সড়কটার উফরে দিয়া খালি গাড়ি চালাইয়া গেলেও বুকটা ধড়ফড় কইরা ওঠে। কহন যে এইডার কাম অইবো উফুর ওয়ালাই জানেন।
সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম তালুদার বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নেও সড়কের কিছু কাজ করেছি। এতে সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সড়কে বর্ষার আগেই কাজ করা না হলে কংস নদের ভাঙনে লামামেউহারী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতঘর ও গ্রামের শত শত বছরের পুরোনো কবরস্থানটি নদে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এবং কৃষকদের চলতি বোর মৌসুমের ধান এ রাস্তা দিয়ে আনা কোনভাবেই সম্ভব না।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন তালুকদার বলেন, সড়কটির ওপর দিয়ে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ আশপাশের উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। রাস্তাটি সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,৩০০ মিটারের মধ্য ৮০ মিটার জায়গায় আমরা জিও টিউব জিও ব্যাগ প্লেসিং ও ডাম্পিং করেছি।এবছর বাকি কাজ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান,বরাদ্দ নেই তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ আসলে বাকি কাজটুকু করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, এই রাস্তাটি নদীর পাশে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তাটি সংরক্ষণ করে অনুমতি দিলে আমরা কাজ করতে পারব। এছাড়াও এলজিইডির হাওরাঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ সড়ক পাকাকরণ, মাটি ভরাট ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের নির্মাণকাজের প্রাক্কলন তৈরি করে তা প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।