০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে সার সংকট: চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটে সার সংকট: চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

 

মাজারুল ইসলাম,
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটে চাহিদামতো সার না পেয়ে লালমনিহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর এলাকায় মোর্শেদ সার ঘরের সামনে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হাতীবান্ধা মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর থেকে সার বিক্রি করা হয়। কয়েক দিন ধরে কৃষকেরা সার পাচ্ছিলেন না। ওই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল রবিবার সকালে সার বিক্রি করা হবে। এ জন্য উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকেরা সকালে সেখানে যান। কিন্তু কয়েকজন কৃষককে তাদের চাহিদামত সার না দিয়ে বিক্রয় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি ‍করেন ডিলার। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। পরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা সকালে সার নিতে এসে জানতে পারেন, চাহিদামতো সার দেওয়া হবে না। পাশাপাশি উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক ও ডিলার খুচরা দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কৃষক আ: রহিম বলেন, দুই বিঘা জমি আবাদের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে সারের জন্য ঘোরাঘুরি করছি। জানতে পারি আজ সকালে সার দেওয়া হবে। সকালেই তিনি বিক্রয়কেন্দ্রে যাই। কিন্তু চাহিদামতো সার না থাকায় আমার মতো অনেক কৃষকেই সার পাচ্ছেন না। তারা চুপিসারে দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি করেন।
আরেক কৃষক কসমত আলী বলেন, ক্ষেতের জন্য এখন সার দরকার কিন্তু কোথাও সার পাচ্ছি না। দুই-এক দিনের মধ্যে সার দিতে না পারলে ভুট্টা লাগাতে পারবো না। আমার মতো বেশির ভাগ কৃষকই সার পাচ্ছে না।

মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা বলেন, সার কত বস্তা গেছে আর কতটুকু মজুদ রয়েছে হিসাব করব। যদি অনিয়ম থাকে তাহলে ডিলার পয়েন্ট বাতিল করা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

লালমনিরহাটে সার সংকট: চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাটে সার সংকট: চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

 

মাজারুল ইসলাম,
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটে চাহিদামতো সার না পেয়ে লালমনিহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর এলাকায় মোর্শেদ সার ঘরের সামনে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হাতীবান্ধা মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর থেকে সার বিক্রি করা হয়। কয়েক দিন ধরে কৃষকেরা সার পাচ্ছিলেন না। ওই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল রবিবার সকালে সার বিক্রি করা হবে। এ জন্য উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকেরা সকালে সেখানে যান। কিন্তু কয়েকজন কৃষককে তাদের চাহিদামত সার না দিয়ে বিক্রয় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি ‍করেন ডিলার। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। পরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা সকালে সার নিতে এসে জানতে পারেন, চাহিদামতো সার দেওয়া হবে না। পাশাপাশি উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক ও ডিলার খুচরা দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কৃষক আ: রহিম বলেন, দুই বিঘা জমি আবাদের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে সারের জন্য ঘোরাঘুরি করছি। জানতে পারি আজ সকালে সার দেওয়া হবে। সকালেই তিনি বিক্রয়কেন্দ্রে যাই। কিন্তু চাহিদামতো সার না থাকায় আমার মতো অনেক কৃষকেই সার পাচ্ছেন না। তারা চুপিসারে দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি করেন।
আরেক কৃষক কসমত আলী বলেন, ক্ষেতের জন্য এখন সার দরকার কিন্তু কোথাও সার পাচ্ছি না। দুই-এক দিনের মধ্যে সার দিতে না পারলে ভুট্টা লাগাতে পারবো না। আমার মতো বেশির ভাগ কৃষকই সার পাচ্ছে না।

মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা বলেন, সার কত বস্তা গেছে আর কতটুকু মজুদ রয়েছে হিসাব করব। যদি অনিয়ম থাকে তাহলে ডিলার পয়েন্ট বাতিল করা হবে।