০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে কৃষকদের হুঁশিয়ারি: “সার সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মাঠে ধান-আলু চাষ বন্ধ হবে”

তানোরে কৃষকদের হুঁশিয়ারি: “সার সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মাঠে ধান-আলু চাষ বন্ধ হবে”

অপু দাস,
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী।

রাজশাহীর তানোরে সার সিন্ডিকেট, সেচের পানির স্বেচ্ছাচারিতা এবং আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতের দাবিতে কৃষকদের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে তানোর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক আয়োজিত এ কৃষক সমাবেশে স্থানীয় শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামে সার মিলছে না। অথচ বাজারে বেশি দামে কিনতে গেলে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাঁরা “সার বাইরে থেকে আসে, তাই দাম বেশি” বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন—এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা।

তাদের দাবি, অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একক ব্যক্তির হাতে সেচ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ থাকায় খাতে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। এতে আলু চাষে প্রতি বিঘায় ১,৫০০ টাকা এবং ধান চাষে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। পানি সরবরাহ কম দেওয়ার কারণে ফলনও কমে যাচ্ছে।

তাদের প্রস্তাব—সেচ স্কিমভুক্ত কৃষকদের নিয়ে একটি সেচ কমিটি গঠন করতে হবে এবং সমবায় ভিত্তিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে দুর্নীতি ও একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হয়।

এছাড়া, কৃষকরা অভিযোগ করেন, কীটনাশকের দাম ও মান দুটিতেই চলছে অনিয়ম। প্যাকেটে দাম লেখা ৯০০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আগের তুলনায় এখন এক মৌসুমে ২–৩ বার নয়, ৬–৭ বার কীটনাশক ব্যবহার করেও ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, বাজারে ভেজাল কীটনাশক ছড়িয়েছে, যা কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

কৃষকরা দাবি জানান—ভেজাল কীটনাশক রোধে অভিযান পরিচালনা, নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

সমাবেশে আরও বলা হয়, আলু সংরক্ষণের স্টোর ভাড়া কেজি প্রতি ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। এতে বড় মালিকরা লাভবান হলেও ছোট কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তাই আগের ভাড়া বহাল রেখে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে কৃষক প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি কর্মকর্তা ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

তানোরে কৃষকদের হুঁশিয়ারি: “সার সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মাঠে ধান-আলু চাষ বন্ধ হবে”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

তানোরে কৃষকদের হুঁশিয়ারি: “সার সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে মাঠে ধান-আলু চাষ বন্ধ হবে”

অপু দাস,
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী।

রাজশাহীর তানোরে সার সিন্ডিকেট, সেচের পানির স্বেচ্ছাচারিতা এবং আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতের দাবিতে কৃষকদের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে তানোর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক আয়োজিত এ কৃষক সমাবেশে স্থানীয় শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামে সার মিলছে না। অথচ বাজারে বেশি দামে কিনতে গেলে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাঁরা “সার বাইরে থেকে আসে, তাই দাম বেশি” বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন—এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা।

তাদের দাবি, অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একক ব্যক্তির হাতে সেচ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ থাকায় খাতে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। এতে আলু চাষে প্রতি বিঘায় ১,৫০০ টাকা এবং ধান চাষে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। পানি সরবরাহ কম দেওয়ার কারণে ফলনও কমে যাচ্ছে।

তাদের প্রস্তাব—সেচ স্কিমভুক্ত কৃষকদের নিয়ে একটি সেচ কমিটি গঠন করতে হবে এবং সমবায় ভিত্তিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে দুর্নীতি ও একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হয়।

এছাড়া, কৃষকরা অভিযোগ করেন, কীটনাশকের দাম ও মান দুটিতেই চলছে অনিয়ম। প্যাকেটে দাম লেখা ৯০০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আগের তুলনায় এখন এক মৌসুমে ২–৩ বার নয়, ৬–৭ বার কীটনাশক ব্যবহার করেও ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, বাজারে ভেজাল কীটনাশক ছড়িয়েছে, যা কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

কৃষকরা দাবি জানান—ভেজাল কীটনাশক রোধে অভিযান পরিচালনা, নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

সমাবেশে আরও বলা হয়, আলু সংরক্ষণের স্টোর ভাড়া কেজি প্রতি ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। এতে বড় মালিকরা লাভবান হলেও ছোট কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তাই আগের ভাড়া বহাল রেখে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে কৃষক প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি কর্মকর্তা ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।