০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধ থেকে অভিযোগ—মারধরের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধ থেকে অভিযোগ—মারধরের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠলেও, ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী শামফুল নেছা (৭৮) ০৩ মে হোমনা থানায় চার ছেলে ও চার পুত্রবধূসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শামফুলের স্বামী শহীদ মিয়া বলেন, “আল্লাহর কসম, আমার ছেলে বা তাদের স্ত্রীরা আমার স্ত্রীকে কোনো মারধর করেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”
তিনি আরও জানান, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একসময় স্ত্রীকে ভালোবেসে ৪ শতক বসতভিটার জমি দান করেন, যেখানে বর্তমানে সন্তানরা বসবাস করছেন। পরবর্তীতে ওই জমি পঞ্চম ছেলে আমানুল্লাহর নামে দলিল করে দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, দানপত্র ও দলিল বাতিল চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় ছেলে আমানুল্লাহ ওই জমি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দিলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান।

শহীদ মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, “জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ থেকেই আমার স্ত্রী কৌশলে ছেলে ও পুত্রবধূদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।”

স্থানীয় প্রতিবেশীরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রতিবেশী আবুল কাশেম বলেন, “শ্যামফুলকে তার ছেলে বা পুত্রবধূরা মারধর করেছে—এমন কোনো ঘটনা আমি শুনিনি।”

অপর প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগমও ভিডিও বক্তব্যে জানান, বিষয়টি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়।

সরে জমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটির মূল কারণ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, এবং মারধরের অভিযোগটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, “অভিযোগকারী শামফুল নেছাকে মারধরের ঘটনার কোনো সত্যতা আমরা পাইনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি মূলত পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এ নিয়ে পুত্রবধূদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে মারধরের প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি অভিযোগকারী জায়গা দখল করে দেওয়ার আবদার করলে বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয়ের পরামর্শ প্রদান করেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধ থেকে অভিযোগ—মারধরের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধ থেকে অভিযোগ—মারধরের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধ থেকে অভিযোগ—মারধরের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠলেও, ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী শামফুল নেছা (৭৮) ০৩ মে হোমনা থানায় চার ছেলে ও চার পুত্রবধূসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শামফুলের স্বামী শহীদ মিয়া বলেন, “আল্লাহর কসম, আমার ছেলে বা তাদের স্ত্রীরা আমার স্ত্রীকে কোনো মারধর করেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”
তিনি আরও জানান, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একসময় স্ত্রীকে ভালোবেসে ৪ শতক বসতভিটার জমি দান করেন, যেখানে বর্তমানে সন্তানরা বসবাস করছেন। পরবর্তীতে ওই জমি পঞ্চম ছেলে আমানুল্লাহর নামে দলিল করে দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, দানপত্র ও দলিল বাতিল চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় ছেলে আমানুল্লাহ ওই জমি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দিলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান।

শহীদ মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, “জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ থেকেই আমার স্ত্রী কৌশলে ছেলে ও পুত্রবধূদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।”

স্থানীয় প্রতিবেশীরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রতিবেশী আবুল কাশেম বলেন, “শ্যামফুলকে তার ছেলে বা পুত্রবধূরা মারধর করেছে—এমন কোনো ঘটনা আমি শুনিনি।”

অপর প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগমও ভিডিও বক্তব্যে জানান, বিষয়টি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়।

সরে জমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটির মূল কারণ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, এবং মারধরের অভিযোগটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, “অভিযোগকারী শামফুল নেছাকে মারধরের ঘটনার কোনো সত্যতা আমরা পাইনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি মূলত পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এ নিয়ে পুত্রবধূদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে মারধরের প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি অভিযোগকারী জায়গা দখল করে দেওয়ার আবদার করলে বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয়ের পরামর্শ প্রদান করেন।