০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে আসন কর্তনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ, টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে

বাগেরহাটে আসন কর্তনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ, টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে

স্টাফ রিপোর্টার: মুহা. নাঈম বিন রফিক, মংলা প্রতিনিধি

বাগেরহাট-৪ আসন কর্তন করে বাগেরহাট-৩ আসনে রূপান্তরের প্রতিবাদে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বদলীয় ঐক্য জোট কমিটির ডাকে শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। সকাল ফজরের নামাজের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও বিক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়, পাশাপাশি মংলা পৌর মার্কেট চত্বর, বাসস্ট্যান্ড ও ট্রলারঘাট এলাকায় ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়।

হরতালের কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। মংলা পারাপারের ট্রলার ঘাট, ফেরিঘাট, পশুর নদীর চ্যানেল ও ঘষিয়াখালী চ্যানেলও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং নৌযান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট আংশিক বন্ধ রেখেছেন, ফলে বাজারগুলোতেও মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন; অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মিছিল ছত্রভঙ্গ করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সর্বদলীয় ঐক্য জোট কমিটির নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বাগেরহাট-৪ আসন কর্তনের এই সিদ্ধান্ত জনগণের রায় ও মতামতের সাথে সাংঘর্ষিক। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা অভিযোগ করে বলেন, আসন কর্তনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবমাননা।

হরতালের কারণে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি সাধারণ মানুষও আসন কর্তনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। জেলার সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাগেরহাট-৪ আসন কর্তনের বিষয়টি, আর জনগণ অপেক্ষা করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

বাগেরহাটে আসন কর্তনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ, টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাগেরহাটে আসন কর্তনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ, টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে

স্টাফ রিপোর্টার: মুহা. নাঈম বিন রফিক, মংলা প্রতিনিধি

বাগেরহাট-৪ আসন কর্তন করে বাগেরহাট-৩ আসনে রূপান্তরের প্রতিবাদে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বদলীয় ঐক্য জোট কমিটির ডাকে শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। সকাল ফজরের নামাজের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও বিক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়, পাশাপাশি মংলা পৌর মার্কেট চত্বর, বাসস্ট্যান্ড ও ট্রলারঘাট এলাকায় ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়।

হরতালের কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। মংলা পারাপারের ট্রলার ঘাট, ফেরিঘাট, পশুর নদীর চ্যানেল ও ঘষিয়াখালী চ্যানেলও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং নৌযান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট আংশিক বন্ধ রেখেছেন, ফলে বাজারগুলোতেও মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন; অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মিছিল ছত্রভঙ্গ করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সর্বদলীয় ঐক্য জোট কমিটির নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বাগেরহাট-৪ আসন কর্তনের এই সিদ্ধান্ত জনগণের রায় ও মতামতের সাথে সাংঘর্ষিক। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা অভিযোগ করে বলেন, আসন কর্তনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবমাননা।

হরতালের কারণে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি সাধারণ মানুষও আসন কর্তনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। জেলার সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাগেরহাট-৪ আসন কর্তনের বিষয়টি, আর জনগণ অপেক্ষা করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।