নতুন পে–স্কেল কার্যকর মার্চে, ডিসেম্বরেই বাজেট সংশোধন শুরু: বাড়বে আয়–ব্যয় দুইই!
আজাদ নিউজ ২৪ অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ২৫ অক্টোবর:
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বাজেট সংশোধন, যেখানে নতুন পে–স্কেল কার্যকরের বিধান যুক্ত করা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই নতুন পে–স্কেলের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকবে। পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষা না করে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
জাতীয় পে–কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে এক দশক ধরে বেতন–ভাতা না বাড়ায় এখন তা পুনর্বিন্যাস সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা চরম আর্থিক চাপে আছেন। এ পরিস্থিতিতে বেতন বৃদ্ধি শতভাগ পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অর্থ বিভাগের মতে, বেতন–ভাতা বাড়লে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে, যা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নিম্নবেতনভুক্ত কর্মকর্তারাও আয়করের আওতায় আসবেন, ফলে রাজস্বও বাড়বে।
এছাড়া সরকারি বাসাবাড়ির ভাড়ার হার সমন্বয় করলেও রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। তাই নতুন কাঠামোর ফলে একদিকে ব্যয় বাড়লেও অন্যদিকে রাজস্ব আহরণের পরিধিও সম্প্রসারিত হবে।
জাতীয় পে–কমিশনের সভাপতি ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান বলেন,
“আমাদের সম্পদ সীমিত। কিন্তু সেই সীমার মধ্যেই সর্বোচ্চ হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে।”
অর্থ বিভাগের আরও দাবি, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে দক্ষ ও মেধাবী জনবল সরকারি প্রশাসনে টানতে হলে প্রতিযোগিতামূলক ও সময়োপযোগী পে–স্কেল অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে কমিশনের কাজ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনলাইনে সংগৃহীত চারটি প্রশ্নমালার মাধ্যমে প্রাপ্ত মতামত ও প্রস্তাব যাচাই–বাছাই চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ডিসেম্বরেই বাজেট সংশোধনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পথ খুলে যাবে।
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 
















