০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ১০০ নম্বরের লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব!

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ১০০ নম্বরের লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব!

অনলাইন ডেষ্ক:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন নেবে এবং লিখিত–মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধার ক্রম অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশ করবে

এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অনিয়মমুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি স্কুল–কলেজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের পরিকল্পনায় শুধু মৌখিক পরীক্ষার কথা থাকলেও, এতে প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ কারণে লিখিত বা এমসিকিউসহ পূর্ণাঙ্গ ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

পরীক্ষা লিখিত হবে নাকি এমসিকিউ—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এনটিআরসিএ বোর্ড।

মাধ্যমিক–২ শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, “কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে, আমরা যাচাই করছি। সচিবের দপ্তরে গেলে চূড়ান্ত হবে।” মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, অতীতে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়ার প্রচলন ছিল। তাই এনটিআরসিএর অধীনে সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চায় কমিটি।

এই কাঠামোয় মৌখিক পরীক্ষার জন্যও আলাদা নম্বর বরাদ্দের সুপারিশ রয়েছে।
দীর্ঘদিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও সেখানে আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইচ্ছামতো নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও আলোচিত ছিল। এসব অনিয়ম ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ স্থগিত করে।

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধানসহ সকল নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ।

শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ার বিকল্প নেই।

মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কমবে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

এনটিআরসিএ এখনো ১০০ নম্বরের বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত না করলেও জানা যায়, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক সাক্ষাৎকার ও প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এনটিআরসিএ বোর্ড সভায়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ১০০ নম্বরের লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ১০০ নম্বরের লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব!

অনলাইন ডেষ্ক:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন নেবে এবং লিখিত–মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধার ক্রম অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশ করবে

এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অনিয়মমুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি স্কুল–কলেজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের পরিকল্পনায় শুধু মৌখিক পরীক্ষার কথা থাকলেও, এতে প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ কারণে লিখিত বা এমসিকিউসহ পূর্ণাঙ্গ ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

পরীক্ষা লিখিত হবে নাকি এমসিকিউ—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এনটিআরসিএ বোর্ড।

মাধ্যমিক–২ শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, “কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে, আমরা যাচাই করছি। সচিবের দপ্তরে গেলে চূড়ান্ত হবে।” মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, অতীতে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়ার প্রচলন ছিল। তাই এনটিআরসিএর অধীনে সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চায় কমিটি।

এই কাঠামোয় মৌখিক পরীক্ষার জন্যও আলাদা নম্বর বরাদ্দের সুপারিশ রয়েছে।
দীর্ঘদিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও সেখানে আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইচ্ছামতো নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও আলোচিত ছিল। এসব অনিয়ম ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ স্থগিত করে।

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধানসহ সকল নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ।

শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ার বিকল্প নেই।

মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কমবে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

এনটিআরসিএ এখনো ১০০ নম্বরের বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত না করলেও জানা যায়, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক সাক্ষাৎকার ও প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এনটিআরসিএ বোর্ড সভায়।