তথাকথিত গ্রাম ডাক্তার কোটালিপাড়ায় সেকেলে পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন
লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া বাজারে মো: আশরাফ (৫০) নামে একজন তথাকথিত গ্রাম ডাক্তার অবৈধভাবে ফার্মেসী পরিচালনাসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার ফার্মেসীতে কোন সাইনবোর্ড নেই। তিনি কোনো রোগীকে চিকিৎসাপত্র না দিয়ে সরাসরি ওষুধ প্রদান করেন।
তথাকথিত ওই গ্রাম ডাক্তার মো: আশরাফ ফার্মেসীতে বসেই বিভিন্ন বয়সী রোগীদের
অপারেশান করেন।
গতকাল শনিবার দুপরে সরেজমিন ওই গ্রাম ডাক্তারের ফার্মেসীতে গিয়ে দেখা গেছে তিনি মেঝেতে বসে একটি শিশুর থুতনীর ক্ষতস্থানে সেলাই করছেন। এসময় তার ছেলে আব্দুল্লাহ মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে ধরে রাখেন আলোর স্বল্পতা মেটাতে।
এধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান বৈধ কিনা বা স্বাভাবিক কিনা তা জানতে চাইলে মো: আশরাফ বলেন, আমি একজন পল্লী চিকিৎসক। আমার চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল সেবা প্রদানের প্রশিক্ষণ নেয়া আছে। আমার পল্লী চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট আছে। ফার্মেসী পরিচালনার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স বা ফার্মাসিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট আছে। এই ছোট বাজারে সাইনবোর্ড না দিলেও চলে তাই দেয়া হয়নি।
গ্রাম ডাক্তার মো: আশরাফ সকল কাগজাদি হালনগাদ নবায়ন আছে বলে দাবী করলেও তিনি কোনো ড্রাগ লাইসেন্স, গ্রাম ডাক্তার প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট, ফার্মাসিস্ট কোর্সের সার্টিফিকেট ইত্যাদি দেখাননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মো: ফজলুল হক বলেন,আমি গোপালগঞ্জে সদ্য যোগদান করেছি। অনেক কিছু এখনও সামলে নিতে পারিনি। সকল ফার্মেসীতে সাইনবোর্ড থাকা বাধ্যতামুলক। কোনো ফার্মাসিস্ট তার পরিচালিত ফার্মেসীতে কোনো রোগীর অপারেশন করতে পারবে না। এধরনের কোনো নিয়ম নেই। এটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। জেলার মধ্যে মুলত সিভিল সার্জনের কার্যালয় অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: 























