মংলায় নারী প্রতিভা বিকাশ মেলা: ‘যে যা পারি’ প্রতিপাদ্যে সৃজনশীলতার অনন্য প্রদর্শনী
স্টাফ রিপোর্টার: মুহা. নাঈন রফিক, মংলা প্রতিনিধি
“যে যা পারি” – এই অনন্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মংলায় অনুষ্ঠিত হলো নারী প্রতিভা বিকাশ মেলা। হাতে খড়ি পাঠশালার উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় স্থানীয় নারীদের সৃজনশীলতা, আত্মনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।
মেলায় প্রদর্শিত হয় নারীদের তৈরি নানা কুটির শিল্পকর্ম, পোশাক, শাড়ি, গয়না, কেক, চকলেটসহ নানা ধরনের হস্তনির্মিত পণ্য। বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাতে তৈরি নান্দনিক মোমবাতি, ফুলদানি, শোপিস ও আঁকা ছবিগুলো। প্রতিটি স্টলে যেন লুকিয়ে ছিল নারীদের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় আর সংগ্রামী জীবনের গল্প। দর্শনার্থীরা শুধু দেখেই ক্ষান্ত হননি; বরং অনেকেই পছন্দসই পণ্য কিনে সেই নারীদের প্রেরণা জুগিয়েছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের সুপ্ত প্রতিভাকে প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা। স্থানীয় পর্যায়ে বাজার সৃষ্টি ও বিক্রির সুযোগের মধ্য দিয়ে নারীরা যেন উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন, সেটিই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা নারী উদ্যোক্তাদের স্টল ঘুরে দেখেন এবং নানা পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, “এ ধরনের মেলা শুধু পণ্য বিক্রির ক্ষেত্র নয়, বরং নারী উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর মঞ্চ। এতে নারীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
মেলায় অংশগ্রহণকারী এক নারী উদ্যোক্তা তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“আমরা ঘরে বসে ছোট ছোট কাজ করি। আগে এসব কাজ শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আজকের মেলার মাধ্যমে আমাদের সেই পরিশ্রম মানুষের সামনে এসেছে। এতে আমরা যেমন গর্বিত, তেমনি আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।”
দর্শনার্থীরাও জানান, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিকে যেমন সমৃদ্ধ করবে, তেমনি নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তুলবে।
সবশেষে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, মংলা ও আশপাশের অঞ্চলে এ মেলার অভিজ্ঞতা নারীদের আত্মনির্ভরতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 























