০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার হোমনায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৩

  • নিজস্ব প্রতিনিধ
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১৮১৯ জন পড়েছেন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৩

দিপক চন্দ্র দেব, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগমকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া তার পৈতৃক সম্পত্তির একাংশ বিক্রি করে ছয় বোনের বিয়ে ও সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন। সে সময় বোনরা নাবালক থাকায় অবশিষ্ট জমি বিএস খতিয়ানে স্বপন মিয়ার নামেই রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে বোনরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের পৈতৃক অংশ অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করলে জমি নিয়ে নতুন ক্রেতাদের সাথে স্বপন মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়। স্বামী সহজ-সরল হওয়ায় স্ত্রী স্বপ্না বেগম নিজেই সাহসিকতার সাথে জমি রক্ষার এই আইনি লড়াই ও থানায় অভিযোগগুলো তদারকি করে আসছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ মার্চ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষরা স্বপ্না বেগমকে একা পেয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে জনসম্মুখে গাছের সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং এক পর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। নির্যাতনের খবর পেয়ে হোমনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে হোমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. মনিরুল, নাহিম এবং নুর হোসেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দীনেশ দাস দত্ত গণমাধ্যমকে জানান, “নারীর ওপর এ ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা খবর পাওয়ামাত্রই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”#

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশ উপজেলা প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার হোমনায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার হোমনায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৩

দিপক চন্দ্র দেব, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগমকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া তার পৈতৃক সম্পত্তির একাংশ বিক্রি করে ছয় বোনের বিয়ে ও সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন। সে সময় বোনরা নাবালক থাকায় অবশিষ্ট জমি বিএস খতিয়ানে স্বপন মিয়ার নামেই রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে বোনরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের পৈতৃক অংশ অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করলে জমি নিয়ে নতুন ক্রেতাদের সাথে স্বপন মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়। স্বামী সহজ-সরল হওয়ায় স্ত্রী স্বপ্না বেগম নিজেই সাহসিকতার সাথে জমি রক্ষার এই আইনি লড়াই ও থানায় অভিযোগগুলো তদারকি করে আসছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ মার্চ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষরা স্বপ্না বেগমকে একা পেয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে জনসম্মুখে গাছের সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং এক পর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। নির্যাতনের খবর পেয়ে হোমনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে হোমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. মনিরুল, নাহিম এবং নুর হোসেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দীনেশ দাস দত্ত গণমাধ্যমকে জানান, “নারীর ওপর এ ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা খবর পাওয়ামাত্রই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”#