০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ার মরুভূমিতে শিবচরের তিন যুবক বন্দি পরিবারে হাহাকার, বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা

লিবিয়ার মরুভূমিতে শিবচরের তিন যুবক বন্দি
পরিবারে হাহাকার, বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা

এস এম আলমগীর হুসাইন
স্টাফ রিপোর্টার
শিবচর, মাদারীপুর

স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, দুঃস্বপ্নে আটকে তিন তরুণ আলমাছ, সজিব আর সবুজ—তিনজনই বের হয়েছিল ইতালির পথে। দালালরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপে পৌঁছে যাবে। সেই স্বপ্নই এখন তাদের ঠেলে দিয়েছে লিবিয়ার মরুভূমির অমানবিক বন্দিদশায়।

মরুপ্রান্তের অন্ধকার ঘরে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে।
লিবিয়ার যে ঘরে তাদের আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে নেই আলো, নেই খাবার বা পানি। হাতে-পায়ে দড়ি, মুখ বাঁধা। পরিবারে পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায়—তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চলছে। অসহায়ের মতো শুধু চিৎকার করে বলছে,
মা, বাঁচাও… নিয়ে যাও বাড়ি…।

প্রতিদিন পরিবারের কাছে পৌঁছায় নতুন ভিডিও আর ভয়াবহ হুমকি। দালালরা বলছে, ৬০ লাখ টাকা না দিলে তিনজনকেই হত্যা করা হবে।
এমন কথা শুনে আলমাছের মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। সজিবের বাবা বললেন,
এত টাকা জোগাড় করব কীভাবে?
সবুজের ভাইয়ের কথায় কেবল হতাশা,
একটুও কিছু করতে পারলাম না ভাইয়ের জন্য…।

তিন পরিবারই নিম্নবিত্ত। কারও আয় সামান্য কৃষিকাজ, কারও দিনমজুরি। তবু ছেলেকে বাঁচাতে কেউ গয়না বিক্রি করছে, কেউ জমি বন্ধক দিতে ছুটছে। তাদের একটাই আশা—ছেলেরা যেন জীবিত ফিরে আসে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি দীর্ঘদিনের মানবপাচার চক্রের কাজ। দালালদের দ্রুত ধরতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—এই দাবি তুলেছেন তারা।

 

শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে। আরও জড়িতদের ধরতে তদন্ত চলছে।

 

আলমাছের মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
আর কোনো স্বপ্ন নাই, বাঁচলেই হইল।
সবুজের বোনের অনুরোধ,
ভাইরে একবার ঘরে ফিরাইয়া দেন…।

ইতালির পথে যাত্রা করা তিন তরুণের জীবন এখন ঝুলে আছে লিবিয়ার মরুপথে। পরিবারগুলো শুধু অপেক্ষায়—কখন ফিরবে তাদের প্রিয় মুখগুলো।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

লিবিয়ার মরুভূমিতে শিবচরের তিন যুবক বন্দি পরিবারে হাহাকার, বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

লিবিয়ার মরুভূমিতে শিবচরের তিন যুবক বন্দি
পরিবারে হাহাকার, বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টা

এস এম আলমগীর হুসাইন
স্টাফ রিপোর্টার
শিবচর, মাদারীপুর

স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, দুঃস্বপ্নে আটকে তিন তরুণ আলমাছ, সজিব আর সবুজ—তিনজনই বের হয়েছিল ইতালির পথে। দালালরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপে পৌঁছে যাবে। সেই স্বপ্নই এখন তাদের ঠেলে দিয়েছে লিবিয়ার মরুভূমির অমানবিক বন্দিদশায়।

মরুপ্রান্তের অন্ধকার ঘরে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে।
লিবিয়ার যে ঘরে তাদের আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে নেই আলো, নেই খাবার বা পানি। হাতে-পায়ে দড়ি, মুখ বাঁধা। পরিবারে পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায়—তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চলছে। অসহায়ের মতো শুধু চিৎকার করে বলছে,
মা, বাঁচাও… নিয়ে যাও বাড়ি…।

প্রতিদিন পরিবারের কাছে পৌঁছায় নতুন ভিডিও আর ভয়াবহ হুমকি। দালালরা বলছে, ৬০ লাখ টাকা না দিলে তিনজনকেই হত্যা করা হবে।
এমন কথা শুনে আলমাছের মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। সজিবের বাবা বললেন,
এত টাকা জোগাড় করব কীভাবে?
সবুজের ভাইয়ের কথায় কেবল হতাশা,
একটুও কিছু করতে পারলাম না ভাইয়ের জন্য…।

তিন পরিবারই নিম্নবিত্ত। কারও আয় সামান্য কৃষিকাজ, কারও দিনমজুরি। তবু ছেলেকে বাঁচাতে কেউ গয়না বিক্রি করছে, কেউ জমি বন্ধক দিতে ছুটছে। তাদের একটাই আশা—ছেলেরা যেন জীবিত ফিরে আসে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি দীর্ঘদিনের মানবপাচার চক্রের কাজ। দালালদের দ্রুত ধরতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—এই দাবি তুলেছেন তারা।

 

শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে। আরও জড়িতদের ধরতে তদন্ত চলছে।

 

আলমাছের মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
আর কোনো স্বপ্ন নাই, বাঁচলেই হইল।
সবুজের বোনের অনুরোধ,
ভাইরে একবার ঘরে ফিরাইয়া দেন…।

ইতালির পথে যাত্রা করা তিন তরুণের জীবন এখন ঝুলে আছে লিবিয়ার মরুপথে। পরিবারগুলো শুধু অপেক্ষায়—কখন ফিরবে তাদের প্রিয় মুখগুলো।