০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হোটেল শ্রমিক ইয়াছিনের মৃত্যু

নবীনগরের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হোটেল শ্রমিক ইয়াছিনের মৃত্যু

মস্তু মিয়া, আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন (২২) দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোরে মারা গেছেন।

নিহত ইয়াছিন নবীনগর পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। নিহতের ভাই শাহীন মিয়া জানান, ভোররাতেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয় এবং ইতিমধ্যে মরদেহ নিয়ে তারা নবীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর আগে একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) শনিবার রাতেই মারা যান।

এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ এর মাজারসংলগ্ন একটি হোটেলে শিপন মিয়া আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হোটেলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে শিপন মিয়া (৩০), হোটেলকর্মী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।

গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় গণি শাহ মাজারের কাছে তালতলায় হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় শিক্ষক এমরান হোসেন মাস্টারের (৩৮) অফিসে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে তারা থোল্লাকান্দি গ্রামে গিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

স্থানীয়রা জানান, এমরান হোসেন মাস্টার নবীনগরের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকায় কর্মরত পুলিশ উপকমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই। তিনি পাশের শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুখ্যাত মনেক ডাকাত ও তার ছেলে শিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের সঙ্গে থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত ও তার সহযোগীদের সম্পর্কও ছিল। সম্প্রতি অবৈধ অর্থ ভাগাবাটোয়ারা নিয়ে শিপন ও রিফাতের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে রিফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলাকারীরা গণিশাহ মাজারসংলগ্ন হোটেলে ঢুকে শিপনের ওপর গুলি চালায়।
নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, শিপনকে গুলি করে রিফাত, থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং এমরান মাস্টারের আত্মীয়। শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে মনেক ডাকাতের অনুসারীরা ভুল করে ধরে নেয় যে এমরান মাষ্টার ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত। সেই ভুল ধারণা থেকেই তারা এমরান মাষ্টারের অফিসে হামলা চালিয়ে তাকে গুলিবিদ্ধ করে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

নবীনগরের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হোটেল শ্রমিক ইয়াছিনের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

নবীনগরের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হোটেল শ্রমিক ইয়াছিনের মৃত্যু

মস্তু মিয়া, আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন (২২) দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোরে মারা গেছেন।

নিহত ইয়াছিন নবীনগর পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। নিহতের ভাই শাহীন মিয়া জানান, ভোররাতেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয় এবং ইতিমধ্যে মরদেহ নিয়ে তারা নবীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর আগে একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) শনিবার রাতেই মারা যান।

এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ এর মাজারসংলগ্ন একটি হোটেলে শিপন মিয়া আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হোটেলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে শিপন মিয়া (৩০), হোটেলকর্মী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।

গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় গণি শাহ মাজারের কাছে তালতলায় হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় শিক্ষক এমরান হোসেন মাস্টারের (৩৮) অফিসে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে তারা থোল্লাকান্দি গ্রামে গিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

স্থানীয়রা জানান, এমরান হোসেন মাস্টার নবীনগরের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকায় কর্মরত পুলিশ উপকমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই। তিনি পাশের শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুখ্যাত মনেক ডাকাত ও তার ছেলে শিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের সঙ্গে থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত ও তার সহযোগীদের সম্পর্কও ছিল। সম্প্রতি অবৈধ অর্থ ভাগাবাটোয়ারা নিয়ে শিপন ও রিফাতের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে রিফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলাকারীরা গণিশাহ মাজারসংলগ্ন হোটেলে ঢুকে শিপনের ওপর গুলি চালায়।
নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, শিপনকে গুলি করে রিফাত, থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং এমরান মাস্টারের আত্মীয়। শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে মনেক ডাকাতের অনুসারীরা ভুল করে ধরে নেয় যে এমরান মাষ্টার ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত। সেই ভুল ধারণা থেকেই তারা এমরান মাষ্টারের অফিসে হামলা চালিয়ে তাকে গুলিবিদ্ধ করে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।