নোয়াখালীতে ২৪ ঘন্টায় পৃথক ঘটনায় আধিপত্যের দ্বন্ধে ১জন খুন,চুরির অভিযোগে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
গোলাম মহিউদ্দিন নসু নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীতে ২৪ ঘন্টায় পৃথক ৩টি অস্বাভাবিক ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আধিপত্যের দ্বন্ধে শুক্রবার(৩ অক্টোবর) রাতে ১জন খুন,চুরির অভিযোগে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
জেলার বেগমগঞ্জের একলাশপুরে আধিপত্যের দ্বন্ধে আরমান হোসেন বিজয় (১৮) নামে এক কিশোরকে শুক্রবার রাতে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। বৃহস্প্রতিবার(২অক্টোবর) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের রাজারামপুরে মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজাপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে শুক্কুর (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করলে (৩ অক্টোকবর) মুত্যুবরন করে এবং শুক্রবার(৩অক্টোবর) রাতে হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় জাফর(১৮) নামে এক তরুনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার(৪ আগষ্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ এসব হত্যাকান্ডে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করেত পারেনি।
জানা গেছে ,আধিপত্য নিয়ে দ্বন্ধের জেরে বেগমগঞ্জে একলাশপুরে আরমান হোসেন বিজয়কে প্রতিপক্ষের লোকরাই পিঠিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। বেগমগঞ্জ থানার এসআই কুতুবউদ্দিন লিয়ন জানান, ঘটনার সময় বিজয়ের সাথে থাকা বাচ্চু ও সজল নামের দুই যুবককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যাকারী কারো নাম জানতে পারেনি ।তিনি আরো জাননা এঘটনায় কেউ গ্রেফতার বা আটক হয়নি।এখনো কোন মামলা হয়নি। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ব্রিজের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয় উপজেলার মজিব সড়ক থেকে নুতন ব্রিজের কাছে আসার পথে অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।নিহতের স্বজনদের দাবি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। প্রাথমিক ভাবে জানা যায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে।পুলিশ আরো জানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবজি-খুন রাহাজনির একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মোবাইল চুরির দায়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শুক্কুর (৩৫) নামে এক যুবকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে মারধর করা হয়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়াার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার(৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মারা যায় । এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহত মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকাসূত্রে জানা যায়,উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের শুক্কুরকে তাদের বাড়ীর সামনের রাস্তায় মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশী বৈঠকের পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক মিলে তাকে মারধর করে।
অপর দিকে জেলার হাতিয়ায় চুরির দায়ে জাফর (১৮) নামে এক তরুণকে সালিশ বৈঠকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সোহেল মাহমুদ নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকা থেকে ওই তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত মো. জাফর চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকার মো. জাকেরের ছেলে।অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সভাপতি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাফর গত সপ্তাহে বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদের বাড়িতে মাসিক চুক্তিতে দিনমজুরের কাজ শুরু করে। ২-৩ দিন কাজ করে সে কাউকে না জানিয়ে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এসময় সোহেল মাহমুদের বাড়ি থেকে তাদের ঘরের আলমারির চাবি, মোবাইল চার্জার ও আসবাবপত্র চুরির অভিযোগ ঊঠে জাফরের বিরুদ্ধে।
এরই জেরে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সোহেল মাহমুদ উপজেলার আলি বাজার এলাকা থেকে জাফরকে ধরে মোটরসাইকেলে প্রকল্প বাজার এলাকায় নিয়ে যায় । সেখানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এসময় জাফরের বাবা জাকেরকেও ডাকা হয়। পরে তার বাবাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে জাফরকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু শনিবার সকালে প্রকল্প বাজারের প্রধান সড়কের পাশে জাফরের মরদেহ গাছের সাথে ঝুলতে দেখে এলাকাবাসী ।
নিহতের বাবা মো. জাকের বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে আটকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকতো, তাকে আমি শাসন করতে পারতাম। তারা ছেলেকে কেন আমার হাতে ছেড়ে দেয়নি? কেন আটকে রেখেছে? আমি এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন, কয়েক দিন আগে ছেলেটা আমার বাড়িতে কাজ করতো। সে আমার ঘর থেকে চাবি, মোবাইলের চার্জারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হাতিয়ার আলী বাজার থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর বেশি আমি কিছু জানি না। আজ সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি।
হাতিয়ার মোর্শেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। #
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 











