০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক দাপটে তমরদ্দি মাদ্রাসায় অশান্তি, আতঙ্কে শিক্ষক-কর্মচারীরা

রাজনৈতিক দাপটে তমরদ্দি মাদ্রাসায় অশান্তি, আতঙ্কে শিক্ষক-কর্মচারীরা

রিয়াজুল ইসলাম, হাতিয়া প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি আহমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শিক্ষক হাফেজ নোমান সাহেবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধ্যক্ষ ও সহকর্মী শিক্ষকদের প্রতি হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছেন বলে জানা গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হাফেজ নোমান সাহেব প্রকাশ্যে অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হন এবং দৌড়ে গিয়ে শারীরিক আক্রমণের চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে তিনি অধ্যক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
নোমান সাহেব রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আমাদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ তার বিরোধিতা করতে সাহস পায় না। আমরা তার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি তিনি হাতিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার দাপট আরও বেড়েছে। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবেই তিনি মাদ্রাসায় কর্তৃত্ব বিস্তার করছেন বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও উৎকণ্ঠিত। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

যেখানে শিক্ষকরা নিরাপদ নন, সেখানে আমাদের সন্তানরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করবে? প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হবে।”

এক শিক্ষার্থীও বলেন,
আমরা চাই মাদ্রাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকুক। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা হুমকি-ধমকি যেন আমাদের পড়াশোনাকে প্রভাবিত না করে।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সহকর্মী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষও নোমান সাহেবের প্রভাবের কাছে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দাপট ও হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

রাজনৈতিক দাপটে তমরদ্দি মাদ্রাসায় অশান্তি, আতঙ্কে শিক্ষক-কর্মচারীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজনৈতিক দাপটে তমরদ্দি মাদ্রাসায় অশান্তি, আতঙ্কে শিক্ষক-কর্মচারীরা

রিয়াজুল ইসলাম, হাতিয়া প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি আহমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শিক্ষক হাফেজ নোমান সাহেবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধ্যক্ষ ও সহকর্মী শিক্ষকদের প্রতি হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছেন বলে জানা গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হাফেজ নোমান সাহেব প্রকাশ্যে অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হন এবং দৌড়ে গিয়ে শারীরিক আক্রমণের চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে তিনি অধ্যক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
নোমান সাহেব রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আমাদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ তার বিরোধিতা করতে সাহস পায় না। আমরা তার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি তিনি হাতিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার দাপট আরও বেড়েছে। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবেই তিনি মাদ্রাসায় কর্তৃত্ব বিস্তার করছেন বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও উৎকণ্ঠিত। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

যেখানে শিক্ষকরা নিরাপদ নন, সেখানে আমাদের সন্তানরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করবে? প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হবে।”

এক শিক্ষার্থীও বলেন,
আমরা চাই মাদ্রাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকুক। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা হুমকি-ধমকি যেন আমাদের পড়াশোনাকে প্রভাবিত না করে।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সহকর্মী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষও নোমান সাহেবের প্রভাবের কাছে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দাপট ও হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে।