০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একমঞ্চে পাঁচ মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সংবাদ সম্মেলন

বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একমঞ্চে পাঁচ মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত পাঁচ সম্ভাব্য প্রার্থীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে হোমনা পৌর মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান।

লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান বলেন, “দেশ, দল ও জনস্বার্থে কুমিল্লা-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীকে বাতিল করে হোমনা-তিতাসের সৎ, আদর্শবান ও জনবান্ধব নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যথায় হোমনা-তিতাসবাসীর সঙ্গে বেইমানি হবে এবং আসনটি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।”

তিনি আরও জানান, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া অতীতে স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী সরকারের সঙ্গে ‘আতাঁত’ করেছেন।

তাদের দাবি, গত ১৭ বছর হোমনা–তিতাসে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ দেখা যায়নি, ফলে দলীয় নেতা–কর্মীদের কাছে তিনি ‘জনবিচ্ছিন্ন’।

মনোনয়নপ্রত্যাশী ওমর ফারুক মুন্না বলেন,
“সেলিম ভূইয়া মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিতাসকে বাদ দিতে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। এটি তিতাসবাসীর প্রতি অপমান।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহর বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে ‘ভাড়াটিয়া’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।

তারা বলেন, “হোমনা-তিতাসে যে কাউকে মনোনয়ন দিলেও গ্রহণযোগ্য হবে, কিন্তু বাইরে থেকে ভাড়াটিয়া প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হবে না।”

মনোনয়নবঞ্চিত পাঁচ প্রার্থী ঘোষণা দেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

একইসঙ্গে দলের স্বার্থে পরস্পরের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা, বিএনপি নেতা–কর্মী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জনতার ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি জনসভায় রূপ নেয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একমঞ্চে পাঁচ মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একমঞ্চে পাঁচ মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত পাঁচ সম্ভাব্য প্রার্থীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে হোমনা পৌর মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান।

লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান বলেন, “দেশ, দল ও জনস্বার্থে কুমিল্লা-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীকে বাতিল করে হোমনা-তিতাসের সৎ, আদর্শবান ও জনবান্ধব নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যথায় হোমনা-তিতাসবাসীর সঙ্গে বেইমানি হবে এবং আসনটি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।”

তিনি আরও জানান, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া অতীতে স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী সরকারের সঙ্গে ‘আতাঁত’ করেছেন।

তাদের দাবি, গত ১৭ বছর হোমনা–তিতাসে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ দেখা যায়নি, ফলে দলীয় নেতা–কর্মীদের কাছে তিনি ‘জনবিচ্ছিন্ন’।

মনোনয়নপ্রত্যাশী ওমর ফারুক মুন্না বলেন,
“সেলিম ভূইয়া মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিতাসকে বাদ দিতে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। এটি তিতাসবাসীর প্রতি অপমান।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহর বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে ‘ভাড়াটিয়া’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।

তারা বলেন, “হোমনা-তিতাসে যে কাউকে মনোনয়ন দিলেও গ্রহণযোগ্য হবে, কিন্তু বাইরে থেকে ভাড়াটিয়া প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হবে না।”

মনোনয়নবঞ্চিত পাঁচ প্রার্থী ঘোষণা দেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

একইসঙ্গে দলের স্বার্থে পরস্পরের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা, বিএনপি নেতা–কর্মী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জনতার ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি জনসভায় রূপ নেয়।