সংবাদ ছাপা হওয়ার পরও অনিয়ম থামেনি
শিবচরের বেসরকারি হাসপাতাল—জনস্বাস্থ্যের সামনে বড় প্রশ্ন
এস এম আলমগীর হুসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, শিবচর (মাদারীপুর)
শিবচর উপজেলায় বছরের পর বছর অনুমোদন ছাড়া অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলেও প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো ভয়াবহ ঝুঁকিতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য। তদন্তমূলক প্রতিবেদন, স্থানীয়দের অভিযোগ আর সংবাদমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, শিবচরে বর্তমানে ত্রিশের ওপর বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। খুব অল্প কয়েকটি ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা ভবনে বা টিনশেড নির্মাণে রোগী ভর্তি করানো হচ্ছে—যা সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গত।
এইসব প্রতিষ্ঠানে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেই প্রশিক্ষিত নার্স। আধুনিক যন্ত্রপাতি সীমিত, স্যানিটেশন ব্যবস্থাও দুর্বল। জরুরি সেবার ন্যূনতম সক্ষমতা ছাড়াই বহু প্রতিষ্ঠান অপারেশন থিয়েটার চালাচ্ছে। কোথাও ওটি সহকারী নেই, কোথাও আবার সনদহীন ব্যক্তিরা রোগী দেখছে। স্থানীয়দের মতে, এসব অনিয়ম সবই বহুদিনের পরিচিত বিষয়—কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ আর দেখা যায় না।
এক স্থানীয় শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে হাসপাতাল হওয়া যায় না। মানুষের জীবনের মূল্য যেন কেউই বিবেচনায় নিতে চায় না।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, সিভিল সার্জনের অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। জেলা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ফোনও বারবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
তবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সরদার মোহাম্মদা খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, উপজেলার সব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভাষা আরও তিক্ত।
কিছু প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক সুরক্ষা পায়
নিয়মিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত দীর্ঘ সময় ‘স্থগিত’ থাকে
বার্ষিক প্রতীকী পরিদর্শন দেখিয়েই অনেক প্রতিষ্ঠান পার পেয়ে যায়
এ কারণে শিবচরের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম থামছে না, বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জনগণের দাবি কয়েকটি বিষয়ের ওপরই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সব অবৈধ হাসপাতাল বন্ধ,
লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক অভিযান,
স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাইয়ের স্থায়ী কার্যক্রম, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের ভাষায়, মানুষের জীবন নিয়ে আর বাণিজ্য নয়—শিবচরের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 











