০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুজিব বর্ষের উপহারের ঘরে নেই উপকারভোগী, ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগ

মুজিব বর্ষের উপহারের ঘরে নেই উপকারভোগী,
ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগ

নুরুল আমিন লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ২৮০টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের বেশির ভাগ ঘরেই থাকেনা প্রকৃত উপকার ভোগীরা,বেশ কয়েকটি ঘরে সারাবছর ধরে ঝুলছে তালা। ভাড়ায় ও থাকছেন অনেকেই,রয়েছে ঘর বিক্রির অভিযোগ ও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ধলিবিলায় ১১৮টি,চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলায় ২৫টি,পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচাদায় ২৫টি,আধুনগর ইউনিয়নের রশিদারঘোনা এলাকায় ২৫ ও চুনতি ইউনিয়নের চান্দা এলাকায় ৮৭টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, জমি ও বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ নেওয়ায় এসব ঘরে থাকছে না অনেকেই। যাচাই বাছাই না করে তৎকালীন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিকটাত্বীয়দের নামে এসব বরাদ্ধ দেয়া হয়।যাদের বেশির ভাগের রয়েছে নিজস্ববাড়ী ও বিত্তশালী। যে কারনে তারা এসব ঘরে থাকছেনা।সুযোগ বুঝে কেউ কেউ গোপনে ঘর ভাড়া দিচ্ছেন,আবার কেউ কেউ গোপনে বিক্রি ও করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যাঁরা এসব ঘরে থাকছেন না, তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পে কয়েকটি ধাপে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ২৮০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সরকারি জমিতে নির্মিত প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ভূমিহীনদের ২ শতাংশ জমিসহ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চুনতি ইউনিয়নের চান্দা এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া ৮৭ টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ভূমিহীন পরিবার বাস করে। বাকি ঘরগুলো খালি থাকায় স্হানীয় ইউপি সদস্য তৈয়ব উল্লাহ অন্য ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলা থেকে পরিবার এনে ঘরগুলো বরাদ্ধ দিয়েছেন,একজনকে ২-৩টি ঘর বরাদ্ধ দেয়ার অভিযোগ ও উঠেছে।৮টি ঘর বিক্রি করার তথ্য ও পাওয়া গেছে

কয়েকটি ঘরো তালা ঝুলছে। বাড়িঘর থাকা ব্যক্তিরা বরাদ্দ নেওয়ায় ঘরগুলো খালি পড়ে আছে।

উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে ২৫টি। ওই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত মাত্র ৭টি পরিবার বাস করছে। আরও ৯পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌখিকভাবে থাকার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকী ঘরগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে তালা,দুটি ঘর বিক্রি হয়েছে বলে ও অভিযোগ রয়েছে।

অপর দিকে পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচাদা এলাকায় জুলেখা বেগম নামক সত্তোরর্ধ্ব এক নারী ঝুপড়িঘরে বাস করছেন। তাঁকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এই নারী।

আধুনগর ইউনিয়নের রশিদের ঘোনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সরোয়ার কামাল বলেন, তিন বছর ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকছেন তাঁরা। কিন্তু জমির দলিল হাতে পাননি।এ ছাড়া বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে, কয়েক দিন পরপর নলকূপ নষ্ট হয়ে যায়। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,উপকারভোগীদের তালিকায় প্রকৃত গৃহহীনদের নাম না থাকা,এক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অন্য ইউনিয়নে এনে মৌখিকভাবে ঘর বরাদ্ধ দেয়া,বরাদ্ধের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম থাকার কারনে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প তেমন সুফল বয়ে আনছেনা।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা. নাহিদ আহমেদ জাকির বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের তালিকা অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানকে ভূমিহীন দেখিয়ে কয়েকজন ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব ঘরের দলিল হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে। যাঁরা উপহারের ঘরে থাকেন না, তাঁদের দলিল বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে দ্রূত ব্যবস্হা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

মুজিব বর্ষের উপহারের ঘরে নেই উপকারভোগী, ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

মুজিব বর্ষের উপহারের ঘরে নেই উপকারভোগী,
ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগ

নুরুল আমিন লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ২৮০টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের বেশির ভাগ ঘরেই থাকেনা প্রকৃত উপকার ভোগীরা,বেশ কয়েকটি ঘরে সারাবছর ধরে ঝুলছে তালা। ভাড়ায় ও থাকছেন অনেকেই,রয়েছে ঘর বিক্রির অভিযোগ ও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ধলিবিলায় ১১৮টি,চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলায় ২৫টি,পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচাদায় ২৫টি,আধুনগর ইউনিয়নের রশিদারঘোনা এলাকায় ২৫ ও চুনতি ইউনিয়নের চান্দা এলাকায় ৮৭টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, জমি ও বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ নেওয়ায় এসব ঘরে থাকছে না অনেকেই। যাচাই বাছাই না করে তৎকালীন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিকটাত্বীয়দের নামে এসব বরাদ্ধ দেয়া হয়।যাদের বেশির ভাগের রয়েছে নিজস্ববাড়ী ও বিত্তশালী। যে কারনে তারা এসব ঘরে থাকছেনা।সুযোগ বুঝে কেউ কেউ গোপনে ঘর ভাড়া দিচ্ছেন,আবার কেউ কেউ গোপনে বিক্রি ও করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যাঁরা এসব ঘরে থাকছেন না, তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পে কয়েকটি ধাপে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ২৮০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সরকারি জমিতে নির্মিত প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ভূমিহীনদের ২ শতাংশ জমিসহ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চুনতি ইউনিয়নের চান্দা এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া ৮৭ টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ভূমিহীন পরিবার বাস করে। বাকি ঘরগুলো খালি থাকায় স্হানীয় ইউপি সদস্য তৈয়ব উল্লাহ অন্য ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলা থেকে পরিবার এনে ঘরগুলো বরাদ্ধ দিয়েছেন,একজনকে ২-৩টি ঘর বরাদ্ধ দেয়ার অভিযোগ ও উঠেছে।৮টি ঘর বিক্রি করার তথ্য ও পাওয়া গেছে

কয়েকটি ঘরো তালা ঝুলছে। বাড়িঘর থাকা ব্যক্তিরা বরাদ্দ নেওয়ায় ঘরগুলো খালি পড়ে আছে।

উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে ২৫টি। ওই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত মাত্র ৭টি পরিবার বাস করছে। আরও ৯পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌখিকভাবে থাকার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকী ঘরগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে তালা,দুটি ঘর বিক্রি হয়েছে বলে ও অভিযোগ রয়েছে।

অপর দিকে পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচাদা এলাকায় জুলেখা বেগম নামক সত্তোরর্ধ্ব এক নারী ঝুপড়িঘরে বাস করছেন। তাঁকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এই নারী।

আধুনগর ইউনিয়নের রশিদের ঘোনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সরোয়ার কামাল বলেন, তিন বছর ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকছেন তাঁরা। কিন্তু জমির দলিল হাতে পাননি।এ ছাড়া বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে, কয়েক দিন পরপর নলকূপ নষ্ট হয়ে যায়। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,উপকারভোগীদের তালিকায় প্রকৃত গৃহহীনদের নাম না থাকা,এক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অন্য ইউনিয়নে এনে মৌখিকভাবে ঘর বরাদ্ধ দেয়া,বরাদ্ধের তালিকায় বিত্তশালীদের নাম থাকার কারনে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প তেমন সুফল বয়ে আনছেনা।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা. নাহিদ আহমেদ জাকির বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের তালিকা অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানকে ভূমিহীন দেখিয়ে কয়েকজন ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব ঘরের দলিল হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে। যাঁরা উপহারের ঘরে থাকেন না, তাঁদের দলিল বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে দ্রূত ব্যবস্হা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে।