১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে করুণ মৃত্যু: এক শ্রমজীবীর শেষ বৃষ্টি

ফরিদপুরে করুণ মৃত্যু: এক শ্রমজীবীর শেষ বৃষ্টি

এস এম আলমগীর হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদপুরের পশ্চিম আলিপুরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নাম-পরিচয় অজানা এক পরিশ্রমী মানুষ—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন, কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারেননি আর কখনও।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লোকটি ফরিদপুরের সালথা থানার বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও এসেছিলেন মিঠু মিয়ার বাড়িতে সামান্য কিছু স্যানিটারির কাজ করতে। কাজ শেষ, পারিশ্রমিক পাওয়া হয়েছে—এখন শুধু বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু হঠাৎ নেমে আসে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজে না যাওয়ার জন্য পাশের এক দোকানের সামনে আশ্রয় নেন তিনি।

কেউ জানত না, সেটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়। দোকানের লোহার সাটারে হাত ছুঁতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই নিথর দেহ মাটিতে। আর উঠলেন না।

পকেটে কোনো মোবাইল ছিল না। তাই পরিবারকেও জানানো সম্ভব হয়নি এখন পর্যন্ত। কেউ একজনের মুখে শুধু শোনা গেছে—“উনার বাড়ি নাকি সালথা থানা।” এর বাইরে তাঁর নাম, তাঁর ঠিকানা, এমনকি তাঁর পরিচয়ও এখন অজানা।

ভাবা যায়? কয়েক মিনিট আগেও মানুষটা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, আজ একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছে সন্তানদের মুখ দেখবেন। কিন্তু বৃষ্টির এক ফোঁটা আর এক ফোঁটা বিদ্যুতের স্পর্শে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল তাঁর সব পরিকল্পনা, সব প্রত্যাশা।

মৃত্যু কতটা কাছে থাকে, আমরা কেউই বুঝি না। কখন, কোথায়, কীভাবে—জানা যায় না। এই অচেনা মানুষটি যেন নীরবে আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন, জীবনটা সত্যিই খুব ভঙ্গুর। এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারে।

সময় কারও জন্য থেমে থাকে না, কিন্তু এই মৃত্যু থমকে দিয়েছে পুরো এলাকা। সবাই তাকিয়ে আছে নিথর দেহটির দিকে—একজন অজানা শ্রমজীবীর, যার গল্প এখানেই শেষ হয়ে গেল।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

ফরিদপুরে করুণ মৃত্যু: এক শ্রমজীবীর শেষ বৃষ্টি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরে করুণ মৃত্যু: এক শ্রমজীবীর শেষ বৃষ্টি

এস এম আলমগীর হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদপুরের পশ্চিম আলিপুরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নাম-পরিচয় অজানা এক পরিশ্রমী মানুষ—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন, কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারেননি আর কখনও।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লোকটি ফরিদপুরের সালথা থানার বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও এসেছিলেন মিঠু মিয়ার বাড়িতে সামান্য কিছু স্যানিটারির কাজ করতে। কাজ শেষ, পারিশ্রমিক পাওয়া হয়েছে—এখন শুধু বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু হঠাৎ নেমে আসে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজে না যাওয়ার জন্য পাশের এক দোকানের সামনে আশ্রয় নেন তিনি।

কেউ জানত না, সেটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়। দোকানের লোহার সাটারে হাত ছুঁতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই নিথর দেহ মাটিতে। আর উঠলেন না।

পকেটে কোনো মোবাইল ছিল না। তাই পরিবারকেও জানানো সম্ভব হয়নি এখন পর্যন্ত। কেউ একজনের মুখে শুধু শোনা গেছে—“উনার বাড়ি নাকি সালথা থানা।” এর বাইরে তাঁর নাম, তাঁর ঠিকানা, এমনকি তাঁর পরিচয়ও এখন অজানা।

ভাবা যায়? কয়েক মিনিট আগেও মানুষটা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, আজ একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছে সন্তানদের মুখ দেখবেন। কিন্তু বৃষ্টির এক ফোঁটা আর এক ফোঁটা বিদ্যুতের স্পর্শে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল তাঁর সব পরিকল্পনা, সব প্রত্যাশা।

মৃত্যু কতটা কাছে থাকে, আমরা কেউই বুঝি না। কখন, কোথায়, কীভাবে—জানা যায় না। এই অচেনা মানুষটি যেন নীরবে আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন, জীবনটা সত্যিই খুব ভঙ্গুর। এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারে।

সময় কারও জন্য থেমে থাকে না, কিন্তু এই মৃত্যু থমকে দিয়েছে পুরো এলাকা। সবাই তাকিয়ে আছে নিথর দেহটির দিকে—একজন অজানা শ্রমজীবীর, যার গল্প এখানেই শেষ হয়ে গেল।