০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে ৪৭টি পূজামণ্ডপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি

হোমনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে ৪৭টি পূজামণ্ডপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি

মোঃ সফিকুল ইসলাম , হোমনা প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হোমনার ৪৭টি পূজামণ্ডপ রূপ নিয়েছে শুধু ধর্মীয় মিলনমেলায় নয়, বরং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার অনানুষ্ঠানিক মাঠে।

গত রবিবার থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, পূজারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং নগদ অর্থ ও উপহারসামগ্রী বিতরণে ব্যস্ত সময় কাটান। স্থানীয়দের মতে, এ বছর পূজামণ্ডপগুলোতে আগের জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিশেষভাবে সক্রিয় দেখা গেছে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুইয়া, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস-২ ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ার সরকারকে। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপে উপহার বিতরণ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লাও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাধিক মণ্ডপে গিয়ে পূজারীদের শুভেচ্ছা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক বিএনপি প্রার্থীর সক্রিয় মাঠপর্যায়ের তৎপরতা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। একইসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও তারা এই পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে কাজে লাগাচ্ছেন।

এ বছর হোমনা উপজেলায় মোট ৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে, যা সনাতন সম্প্রদায়ের উৎসব আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত—চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এ বছর বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের তৎপরতা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করছে। পূজামণ্ডপে তাদের সরগরম উপস্থিতি শুধুমাত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

হোমনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে ৪৭টি পূজামণ্ডপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

হোমনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে ৪৭টি পূজামণ্ডপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি

মোঃ সফিকুল ইসলাম , হোমনা প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হোমনার ৪৭টি পূজামণ্ডপ রূপ নিয়েছে শুধু ধর্মীয় মিলনমেলায় নয়, বরং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার অনানুষ্ঠানিক মাঠে।

গত রবিবার থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, পূজারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং নগদ অর্থ ও উপহারসামগ্রী বিতরণে ব্যস্ত সময় কাটান। স্থানীয়দের মতে, এ বছর পূজামণ্ডপগুলোতে আগের জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিশেষভাবে সক্রিয় দেখা গেছে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুইয়া, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস-২ ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ার সরকারকে। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপে উপহার বিতরণ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লাও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাধিক মণ্ডপে গিয়ে পূজারীদের শুভেচ্ছা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক বিএনপি প্রার্থীর সক্রিয় মাঠপর্যায়ের তৎপরতা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। একইসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও তারা এই পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে কাজে লাগাচ্ছেন।

এ বছর হোমনা উপজেলায় মোট ৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে, যা সনাতন সম্প্রদায়ের উৎসব আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত—চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এ বছর বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের তৎপরতা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করছে। পূজামণ্ডপে তাদের সরগরম উপস্থিতি শুধুমাত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।