ধর্মপাশায় সেলবরষ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়ে চলছে চিকিৎসা ।
মোঃ রফিকুল ইসলাম টিটু।
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সেলবরষতা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবার নামে প্রতারণা ও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে । সরজমিনে গিয়ে পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ভরা বস্তা, ইনটেক কার্টুনভর্তি ফেলে দেওয়া ভালো ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবার নামে অবহেলার নগ্ন দৃশ্য।
প্রতিষ্ঠানটিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজন মিডওয়াইফ ও এক ঝাড়ুদারকে দিয়ে চিকিৎসাকার্য চালানো হচ্ছে । কেন্দ্রটিতে সপ্তাহে সাত দিন সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত খোলা হচ্ছে মাত্র এক বা দুই দিন। ফলে, প্রত্যন্ত এই হাওর অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রায় ৬০-৭০ হাজার লোক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও তালিকাহীন বরাদ্দ
অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয় যখন কর্তব্যরত মিডওয়াইফ রাবেয়া আক্তার বরাদ্দকৃত ঔষধের কোন তালিকা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্যারাসিটামল, সালভিটমল ও এজিথ্রোমাইসিন সিরাপের মতো জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ইনটেক কার্টুনের মেয়াদই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কেন্দ্রে ঘুরলে বস্তাভর্তি লাখ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং আবর্জনার মাঝে ফেলে রাখা ওষুধের সন্ধান মেলে। মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এসব ওষুধ না দিয়েই মেয়াদোত্তীর্ণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের পক্ষ থেকেও।
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেবাকেন্দ্রটি আজ চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে । এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, বরং গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং অপচিকিৎসার সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার হলেও সেলবরষের মানুষের কাছে তা যেন এক কাগুজে প্রতিশ্রুতিই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়মিত চালু রাখে ওষুধ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুবীর সরকার জানান, মেডিসিন না দেওয়া এবং মেডিসিন মেয়াদ উত্তীর্ণ করার পিছনে যারা দায়ী আছে তাদেরকে উদ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 











