০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবি—রাজশাহীতে বিএফএ’র সংবাদ সম্মেলন”

“বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবি—রাজশাহীতে বিএফএ’র সংবাদ সম্মেলন”

অপু, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো সার। আর সেই সার কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে বছরের পর বছর নিরলস কাজ করে আসছেন দেশের সার ডিলাররা। কিন্তু সরকারের সম্ভাব্য নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের দাবি—বিদ্যমান নীতিমালাকেই বহাল রাখতে হবে, নাহলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে স্থানীয় অর্থনীতি পর্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

রাজশাহীতে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। দুপুর ১২টায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. আবুল কালাম। এসময় জেলার বিভিন্ন সার ডিলার ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা জানান, রাজশাহী জেলার ৮৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বর্তমানে বিসিআইসি’র ৮৯ জন এবং বিএডিসি’র ১৩১ জন ডিলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দিচ্ছেন। সরকারের খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ডিলাররা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের অভিজ্ঞতা ও সুনাম ধরে রাখতে বিদ্যমান নীতিমালা বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিলাররা অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের পর থেকে সার বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে, পরিবহন ব্যয়, গুদাম ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, লোড-আনলোড খরচ, এমনকি ব্যাংক সুদও বেড়েছে। কিন্তু কমিশন অপরিবর্তিত রয়ে গেছে ১০০ টাকা। তাদের দাবি—এটি বাড়িয়ে অন্তত ২০০ টাকা করতে হবে।

বক্তারা জানান, ডিলাররা সবসময় সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করছেন। যেমন—ইউরিয়ার নির্ধারিত দাম ১৩৫০ টাকা হলেও মাঠপর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩১০-১৩২০ টাকায়। একইভাবে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারও সরকারি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ডিলারদের আরও দাবি, যদি একই পরিবারে বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী বা ভাই-ভাই আলাদা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং সরকার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেন, তবে তাদের ডিলারশিপ বহাল রাখতে হবে। নাহলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে। এতে ব্যাংক ঋণ, কৃষকদের বাকী টাকা এবং গুদামে থাকা মালের দায়ভার কে নেবে—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হয়। তাই এ ধরনের সারের ওপর উৎস কর আরোপ করা হলে তা সরাসরি কৃষকদের ওপর প্রভাব ফেলবে। ডিলারদের আশঙ্কা, এতে সারের বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেড়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একসুরে বলেন—সার শুধু ব্যবসা নয়, দেশের কৃষি উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। এই খাতে নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তন হলে কৃষক, ডিলার, এমনকি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা—সবই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই বিদ্যমান সার নীতিমালাই বহাল রাখা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবি—রাজশাহীতে বিএফএ’র সংবাদ সম্মেলন”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

“বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবি—রাজশাহীতে বিএফএ’র সংবাদ সম্মেলন”

অপু, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো সার। আর সেই সার কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে বছরের পর বছর নিরলস কাজ করে আসছেন দেশের সার ডিলাররা। কিন্তু সরকারের সম্ভাব্য নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের দাবি—বিদ্যমান নীতিমালাকেই বহাল রাখতে হবে, নাহলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে স্থানীয় অর্থনীতি পর্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

রাজশাহীতে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। দুপুর ১২টায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. আবুল কালাম। এসময় জেলার বিভিন্ন সার ডিলার ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা জানান, রাজশাহী জেলার ৮৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বর্তমানে বিসিআইসি’র ৮৯ জন এবং বিএডিসি’র ১৩১ জন ডিলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দিচ্ছেন। সরকারের খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ডিলাররা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের অভিজ্ঞতা ও সুনাম ধরে রাখতে বিদ্যমান নীতিমালা বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিলাররা অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের পর থেকে সার বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে, পরিবহন ব্যয়, গুদাম ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, লোড-আনলোড খরচ, এমনকি ব্যাংক সুদও বেড়েছে। কিন্তু কমিশন অপরিবর্তিত রয়ে গেছে ১০০ টাকা। তাদের দাবি—এটি বাড়িয়ে অন্তত ২০০ টাকা করতে হবে।

বক্তারা জানান, ডিলাররা সবসময় সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করছেন। যেমন—ইউরিয়ার নির্ধারিত দাম ১৩৫০ টাকা হলেও মাঠপর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩১০-১৩২০ টাকায়। একইভাবে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারও সরকারি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ডিলারদের আরও দাবি, যদি একই পরিবারে বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী বা ভাই-ভাই আলাদা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং সরকার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেন, তবে তাদের ডিলারশিপ বহাল রাখতে হবে। নাহলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে। এতে ব্যাংক ঋণ, কৃষকদের বাকী টাকা এবং গুদামে থাকা মালের দায়ভার কে নেবে—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হয়। তাই এ ধরনের সারের ওপর উৎস কর আরোপ করা হলে তা সরাসরি কৃষকদের ওপর প্রভাব ফেলবে। ডিলারদের আশঙ্কা, এতে সারের বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেড়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একসুরে বলেন—সার শুধু ব্যবসা নয়, দেশের কৃষি উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। এই খাতে নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তন হলে কৃষক, ডিলার, এমনকি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা—সবই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই বিদ্যমান সার নীতিমালাই বহাল রাখা এখন সময়ের দাবি।