হোমনায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির জেরে মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগ, ২২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা!
মোঃ আবুল কালাম আজাদ
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় উত্তেজিত জনতা কয়েকটি মাজার ও বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুই হাজার ২০০ জনকে আসামি করে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে আসাদপুর গ্রামের আলেক শাহ’র ছেলে মহসীন (৩৫) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মহানবী (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একইদিন দুপুরে হোমনা থানা পুলিশ মহসীনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে উপজেলা ইসলামী যুবসেনার নেতা শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
গ্রেফতারের পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা আসাদপুর ইউনিয়নের কফিল উদ্দিন শাহ ও আলেক শাহ’র মাজারে হামলা চালায়। এ সময় তারা মাজারের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং মহসীনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় আবদু শাহ ও কালু শাহ’র মাজার এবং হাওয়ালী বিবির আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। এতে টিনশেড ঘর, দুটি ভবন, দানবাক্স, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, গ্যাস সিলিন্ডারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ ঘটনায় হোমনা থানার এসআই তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২২০০ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৯/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/২৯৭/৩৮০/৪২৭/১৮৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আসাদপুর বাজারে স্থানীয় মুসলিম জনতার উদ্দেশে সভা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাইদুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা তাইজুল ইসলাম। তারা এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের সনাক্তে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি মাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়—এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 











