০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানী জাইকার পাঠানো প্রতিবেদন প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে রেকর্ড ব্যয় প্রস্তাব

  • আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৮ জন পড়েছেন

জাপানী জাইকার পাঠানো প্রতিবেদন প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে রেকর্ড ব্যয় প্রস্তাব

নুরুল আমিন লোহাগাডা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকার) পাঠানো তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে ৪৭ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রধান দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার স্থানীয় দপ্তরের মতে, এ রেকর্ড ব্যয়ের মূল কারণ হলো পরিবেশবান্ধব নকশা, যেখানে আঞ্চলিক জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।মহাসড়কের প্রায় ৬০শতাংশ অংশ হবে উচু সেতু নির্ভর কাটানো বা উভার পাস যাতে বন্য প্রানীর চলাচল বাধাগ্রস্থ না হয়, বিশেষ করে চুনতি ও ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্যের মধ্যে বিপন্ন এশিয়া হাতির অভিবাসন নির্বিঘ্ন রাখতে।

জাইকা চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর এক বছরের সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে শাহ আমানত ব্রিজ থেকে ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।চট্টগ্রাম মহাসড়ক জনপথ (সওজ)বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, এ প্রতিবেদনটি মহাসড়ক সম্প্রসারণের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রসারিত মহাসড়কটি নির্মাণাধীন মাতারবাড়ি
গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যা অত্যন্ত পরিবেশ সংবেদনশীল জীববৈচিত্র অঞ্চল,ফাঁসিয়াখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দিয়ে অতিক্রম করবে।

তিনি আরও বলেন, সওজ জাইকার সমীক্ষা মূল্যায়ন করছে এবং প্রকল্প ব্যয়, সংযোগ ও সংরক্ষণ—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য বিকল্প প্রস্তাবও তৈরি হতে পারে।সওজ সূত্র জানাই বর্তমানে ১৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই প্রান্তে প্রায়
৮ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, পটিয়া দোহাজারী,লোহাগাড়া ও চকরিয়া এলাকায় ২৩
কিলোমিটার বাইপাস ও কেরানিহাটে একটি ওভারপাস নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প ও শুরু হতে যাচ্ছে।( জাইকার)প্রস্তাবে ফাঁসিয়া খালি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

জাইকার পরিকল্পনায় কেবল সিভিল কাজের খরচ ধরা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা, আর মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ সেবায় ব্যবহৃত হবে।এর মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকা লাগবে চুনতি থেকে ফাঁসিয়ে খালি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উচু সড়ক (এলিভেটেডকরিডর) নির্মাণে।

তুলনা করতে গেলে—ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের প্রতি কিলোমিটার খরচ ছিল প্রায় ২০১ কোটি টাকা, আর প্রস্তাবিত কক্সবাজার–মাতারবাড়ী সড়কের খরচ ধরা হয়েছে প্রতি কিলোমিটার ৪৭৬ কোটি টাকা।
কিন্তু জাইকার প্রস্তাব মতে এই ৬৫ কিলোমিটার সড়কের প্রতি কিলোমিটার খরচ দাঁড়াচ্ছে ৭২৩ কোটি টাকা—যা বাংলাদেশের যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্পের রেকর্ড ব্যয়।
হোসেন বলেন, প্রকল্পটির নকশা বিশ্বমানের এবং পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল; তবে ব্যয় অত্যন্ত কঠিন”—যা দেশের পক্ষে বহন করা চ্যালেঞ্জিং।

বর্তমানে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সংকীর্ণ দুই লেনের হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। অনেক অংশেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে, ফলে এটি দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক।
মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে মালবাহী যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়বে—তাই চট্টগ্রাম, ঢাকা ও বন্দরাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনে বাধাহীনতা নিশ্চিত করতে উচ্চগতির চার লেন মহাসড়ক অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে।

জীববৈচিত্র্যে কোনো আপস নয়
প্রস্তাবিত মহাসড়ক যে পথ দিয়ে যাবে, তা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি বন্যা–প্রবণ এলাকা। এখানেই বাস বিপন্ন এশীয় হাতিসহ আরও বহু বন্যপ্রাণীর।
বহু বছর ধরে বন বিভাগ এমন কোনো প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে, যা এসব পরিবেশগত করিডরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জাইকার এই উঁচু সড়ক নকশা তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের সরাসরি সমাধান দেয়—পূর্বের অবকাঠামো প্রকল্পের মতো যাতে প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট না হয়।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন:
সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বন্যপ্রাণীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধানই হলো উঁচু সড়ক (এলিভেটেড রোড)।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে পরিকল্পনাহীন সড়ক ও রেল প্রকল্পের কারণে হাতির অভিবাসন পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ফলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই ৬০ শতাংশ ওভারপাস নকশা হলো জীববৈচিত্র্য রক্ষার ন্যূনতম শর্ত। ব্যয় বেশি হলেও আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ হারানো চলবে না।”

ওভারপাসগুলো বনভূমির প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করবে—যা ছোট প্রাণী ও ভূমির জলগত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন বিভাগ সওজ ও জাইকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহু বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছে—চুনতি থেকে ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার জুড়ে ধারাবাহিক ওভারপাস নির্মাণের জন্য—যেখানে হাতিসহ বহু প্রজাতির প্রাণী নিয়মিত চলাচল করে,মনে হয় এই বৈচিত্র রক্ষায় ব্যয়বহুল প্রকল্প বাংলাদেশের প্রথম।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকদের ৩৫তম রিফ্রেশার্স কোর্স শুরু

জাপানী জাইকার পাঠানো প্রতিবেদন প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে রেকর্ড ব্যয় প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

জাপানী জাইকার পাঠানো প্রতিবেদন প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে রেকর্ড ব্যয় প্রস্তাব

নুরুল আমিন লোহাগাডা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকার) পাঠানো তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে ৪৭ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রধান দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার স্থানীয় দপ্তরের মতে, এ রেকর্ড ব্যয়ের মূল কারণ হলো পরিবেশবান্ধব নকশা, যেখানে আঞ্চলিক জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।মহাসড়কের প্রায় ৬০শতাংশ অংশ হবে উচু সেতু নির্ভর কাটানো বা উভার পাস যাতে বন্য প্রানীর চলাচল বাধাগ্রস্থ না হয়, বিশেষ করে চুনতি ও ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্যের মধ্যে বিপন্ন এশিয়া হাতির অভিবাসন নির্বিঘ্ন রাখতে।

জাইকা চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর এক বছরের সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে শাহ আমানত ব্রিজ থেকে ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।চট্টগ্রাম মহাসড়ক জনপথ (সওজ)বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, এ প্রতিবেদনটি মহাসড়ক সম্প্রসারণের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রসারিত মহাসড়কটি নির্মাণাধীন মাতারবাড়ি
গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যা অত্যন্ত পরিবেশ সংবেদনশীল জীববৈচিত্র অঞ্চল,ফাঁসিয়াখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দিয়ে অতিক্রম করবে।

তিনি আরও বলেন, সওজ জাইকার সমীক্ষা মূল্যায়ন করছে এবং প্রকল্প ব্যয়, সংযোগ ও সংরক্ষণ—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য বিকল্প প্রস্তাবও তৈরি হতে পারে।সওজ সূত্র জানাই বর্তমানে ১৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই প্রান্তে প্রায়
৮ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, পটিয়া দোহাজারী,লোহাগাড়া ও চকরিয়া এলাকায় ২৩
কিলোমিটার বাইপাস ও কেরানিহাটে একটি ওভারপাস নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প ও শুরু হতে যাচ্ছে।( জাইকার)প্রস্তাবে ফাঁসিয়া খালি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

জাইকার পরিকল্পনায় কেবল সিভিল কাজের খরচ ধরা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা, আর মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ সেবায় ব্যবহৃত হবে।এর মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকা লাগবে চুনতি থেকে ফাঁসিয়ে খালি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উচু সড়ক (এলিভেটেডকরিডর) নির্মাণে।

তুলনা করতে গেলে—ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের প্রতি কিলোমিটার খরচ ছিল প্রায় ২০১ কোটি টাকা, আর প্রস্তাবিত কক্সবাজার–মাতারবাড়ী সড়কের খরচ ধরা হয়েছে প্রতি কিলোমিটার ৪৭৬ কোটি টাকা।
কিন্তু জাইকার প্রস্তাব মতে এই ৬৫ কিলোমিটার সড়কের প্রতি কিলোমিটার খরচ দাঁড়াচ্ছে ৭২৩ কোটি টাকা—যা বাংলাদেশের যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্পের রেকর্ড ব্যয়।
হোসেন বলেন, প্রকল্পটির নকশা বিশ্বমানের এবং পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল; তবে ব্যয় অত্যন্ত কঠিন”—যা দেশের পক্ষে বহন করা চ্যালেঞ্জিং।

বর্তমানে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সংকীর্ণ দুই লেনের হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। অনেক অংশেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে, ফলে এটি দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক।
মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে মালবাহী যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়বে—তাই চট্টগ্রাম, ঢাকা ও বন্দরাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনে বাধাহীনতা নিশ্চিত করতে উচ্চগতির চার লেন মহাসড়ক অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে।

জীববৈচিত্র্যে কোনো আপস নয়
প্রস্তাবিত মহাসড়ক যে পথ দিয়ে যাবে, তা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি বন্যা–প্রবণ এলাকা। এখানেই বাস বিপন্ন এশীয় হাতিসহ আরও বহু বন্যপ্রাণীর।
বহু বছর ধরে বন বিভাগ এমন কোনো প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে, যা এসব পরিবেশগত করিডরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জাইকার এই উঁচু সড়ক নকশা তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের সরাসরি সমাধান দেয়—পূর্বের অবকাঠামো প্রকল্পের মতো যাতে প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট না হয়।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন:
সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বন্যপ্রাণীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধানই হলো উঁচু সড়ক (এলিভেটেড রোড)।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে পরিকল্পনাহীন সড়ক ও রেল প্রকল্পের কারণে হাতির অভিবাসন পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ফলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই ৬০ শতাংশ ওভারপাস নকশা হলো জীববৈচিত্র্য রক্ষার ন্যূনতম শর্ত। ব্যয় বেশি হলেও আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ হারানো চলবে না।”

ওভারপাসগুলো বনভূমির প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করবে—যা ছোট প্রাণী ও ভূমির জলগত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন বিভাগ সওজ ও জাইকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহু বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছে—চুনতি থেকে ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার জুড়ে ধারাবাহিক ওভারপাস নির্মাণের জন্য—যেখানে হাতিসহ বহু প্রজাতির প্রাণী নিয়মিত চলাচল করে,মনে হয় এই বৈচিত্র রক্ষায় ব্যয়বহুল প্রকল্প বাংলাদেশের প্রথম।