০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাত নাই পায়ে লিখে এমবিএ পাশ

হাত নাই পায়ে লিখে এমবিএ পাশ

নুরুল আমিন,লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

বেঞ্চে দুই পা তুলে ডান পা দিয়ে লেখেন সে। কলমে বেশ খানিকটা ভর দিয়ে, কিছুটা ধীরে লিখতে হয়। পা দিয়ে লিখেই শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে স্বাক্ষর রেখেছেন।সম্প্রতি এমবিএ ও সম্পন্ন করেছেন।
বলছিলাম, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের দূর্গম জনপদ হরিদাঘোনা এলাকার প্রতিবন্ধী মোঃ আলীর কথা।জন্মগত ভাবে দুটো হাত না থাকলে ও তার অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর মনোবল তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনী।নিজের স্বপ্ন পুরনে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পায়ের লিখেই এমবিএ পাশ করেছে।
মোঃ আলীর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ২নং ওয়ার্ড হরিদাঘোনায়।পিতা আমিন শরীফ ও মাতা শামসুন্নাহার।

তার পড়ালেখা শুরু বড়হাতিয়া শাহ জব্বারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।শিক্ষা জীবন শুরুর গল্পটা ও করুন,কোন স্কুলে তাকে ভর্তি করাতে চাযনি।অবশেষ অনেক বাঁধা বিপত্তির পর সেখানে ভর্তি করা হয়।এরপর মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন বিজি সেনেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়,উচ্চ মাধ্যমিক সাতকানিয়া সরকারি কলেজ সর্বশেষ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমবিএ সস্পন্ন করেছেন।

মোঃ আলীর বাবা ও মা ও মায়ের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মোঃ আলী সবার। সে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটি হাত নেই, কিন্তু প্রতিবন্ধী হলেও আমরা তাকে প্রতিবন্ধী মনে করি না। হাত না থাকায় ছোট থেকেই আমরা তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। পা দিয়ে লিখলেও তার লেখা অনেক সুন্দর এবং পড়াশোনায় সে খুবই মনোযোগী।

মোঃ আলীর দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করেন তার মা। তার স্বপ্ন একটি সরকারি সরকারি চাকরি পাওয়া, তাঁর ভাষায় ‘সরকারি অফিসার’ হতে চান।এরই মধ্যে সে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন,বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন ও করেছেন।

মোঃ আলী আক্ষেপের সূরে জাানান,অনেক জায়গায় চাকরির আবেদন করি, পড়াশোনা করি, পরীক্ষা দিই, কোনো কোনোটাতে টিকেও যাই, কিন্তু পরে আর ডাকে না। এভাবেই চলছে আমার জীবন।

সাতকানিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্হাপনা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হামিদ বলেন, মোঃ আলীর দুটো হাত নেই,তারপরে ও অনেক সংগ্রাম করে সে পড়াশোনা করেছে। অনেক কষ্ট করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করত। তার বিবিএ ও এমবিএ, র ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। এরকম সংগ্রাম করে পড়াশোনা করা একটি ছেলে দেশের সম্পদ। তার কম্পিউটার জ্ঞান ভালো। একটি সরকারি চাকরি পেলে সে পরিবারের ভরনপোষণ করতে পারবে। সে দেশের সম্পদে পরিণত হবে এমনটাই আশাবাদী আমরা।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,মোঃ আলীর মত অদম্য ইচ্ছাশক্তি সস্পন্ন ছেলেরা আমাদের গর্ব।সে যাতে প্রতিষ্টিত হয় এ ব্যাপারে আমাদের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাবো। কঠোর সংগ্রামী এমন প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও বটে। তার পরিবার একটি আবেদন দিলে সরকারি সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে ও জানান তিনি।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকদের ৩৫তম রিফ্রেশার্স কোর্স শুরু

হাত নাই পায়ে লিখে এমবিএ পাশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

হাত নাই পায়ে লিখে এমবিএ পাশ

নুরুল আমিন,লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

বেঞ্চে দুই পা তুলে ডান পা দিয়ে লেখেন সে। কলমে বেশ খানিকটা ভর দিয়ে, কিছুটা ধীরে লিখতে হয়। পা দিয়ে লিখেই শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে স্বাক্ষর রেখেছেন।সম্প্রতি এমবিএ ও সম্পন্ন করেছেন।
বলছিলাম, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের দূর্গম জনপদ হরিদাঘোনা এলাকার প্রতিবন্ধী মোঃ আলীর কথা।জন্মগত ভাবে দুটো হাত না থাকলে ও তার অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর মনোবল তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনী।নিজের স্বপ্ন পুরনে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পায়ের লিখেই এমবিএ পাশ করেছে।
মোঃ আলীর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ২নং ওয়ার্ড হরিদাঘোনায়।পিতা আমিন শরীফ ও মাতা শামসুন্নাহার।

তার পড়ালেখা শুরু বড়হাতিয়া শাহ জব্বারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।শিক্ষা জীবন শুরুর গল্পটা ও করুন,কোন স্কুলে তাকে ভর্তি করাতে চাযনি।অবশেষ অনেক বাঁধা বিপত্তির পর সেখানে ভর্তি করা হয়।এরপর মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন বিজি সেনেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়,উচ্চ মাধ্যমিক সাতকানিয়া সরকারি কলেজ সর্বশেষ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমবিএ সস্পন্ন করেছেন।

মোঃ আলীর বাবা ও মা ও মায়ের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মোঃ আলী সবার। সে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটি হাত নেই, কিন্তু প্রতিবন্ধী হলেও আমরা তাকে প্রতিবন্ধী মনে করি না। হাত না থাকায় ছোট থেকেই আমরা তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। পা দিয়ে লিখলেও তার লেখা অনেক সুন্দর এবং পড়াশোনায় সে খুবই মনোযোগী।

মোঃ আলীর দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করেন তার মা। তার স্বপ্ন একটি সরকারি সরকারি চাকরি পাওয়া, তাঁর ভাষায় ‘সরকারি অফিসার’ হতে চান।এরই মধ্যে সে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন,বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন ও করেছেন।

মোঃ আলী আক্ষেপের সূরে জাানান,অনেক জায়গায় চাকরির আবেদন করি, পড়াশোনা করি, পরীক্ষা দিই, কোনো কোনোটাতে টিকেও যাই, কিন্তু পরে আর ডাকে না। এভাবেই চলছে আমার জীবন।

সাতকানিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্হাপনা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হামিদ বলেন, মোঃ আলীর দুটো হাত নেই,তারপরে ও অনেক সংগ্রাম করে সে পড়াশোনা করেছে। অনেক কষ্ট করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করত। তার বিবিএ ও এমবিএ, র ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। এরকম সংগ্রাম করে পড়াশোনা করা একটি ছেলে দেশের সম্পদ। তার কম্পিউটার জ্ঞান ভালো। একটি সরকারি চাকরি পেলে সে পরিবারের ভরনপোষণ করতে পারবে। সে দেশের সম্পদে পরিণত হবে এমনটাই আশাবাদী আমরা।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,মোঃ আলীর মত অদম্য ইচ্ছাশক্তি সস্পন্ন ছেলেরা আমাদের গর্ব।সে যাতে প্রতিষ্টিত হয় এ ব্যাপারে আমাদের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাবো। কঠোর সংগ্রামী এমন প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও বটে। তার পরিবার একটি আবেদন দিলে সরকারি সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে ও জানান তিনি।