০৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে ৯৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ!

হোমনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে ৯৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ!

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একাংশের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভিটিকালমিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি হোমনা উপজেলা শাখা মো. মুসলেহ উদ্দিন ১৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম, হাসান উদ্দিন মোল্লা, মো. ইমান উদ্দিন, মো. ইকবাল হোসেন, জামির হোসেন, মো. মহসীন ও প্রধান শিক্ষক মো. শাহীনসহ কয়েকজন শিক্ষক “বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি”র নামে একটি ভুয়া ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অফিস দখল করেন।

পরবর্তীতে তারা সমিতির হিসাব থেকে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং মার্কেটের ১৪ মাসের ভাড়া বাবদ আরও প্রায় ১৪ লাখ টাকা সাধারণ শিক্ষকদের অনুমোদন বা রেজুলেশন ছাড়াই বেআইনিভাবে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৬২ সালে হোমনা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক চাঁদা থেকে সংগৃহীত অর্থে উপজেলা সদরে ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দোকান বরাদ্দে শিক্ষক পরিবারের অগ্রাধিকার থাকার কথা থাকলেও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষক পরিবারের সদস্যকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান,
“কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, শিক্ষক সমাজের কল্যাণের নামে সমিতি দখল করে ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করছেন। অথচ এই কমিটি সাধারণ শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত নয়, এমনকি অনুমোদিতও নয়। সমিতিতে অনেক শিক্ষকের নাম সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাদের অনেকে বিষয়টি জানেনই না। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত করে, তাহলে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে কথিত সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম থাকা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
“আমি এই সমিতির সাথে যুক্ত নই। আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেনে আমি জড়িত নই।”
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ভূঁইয়া বলেন,

“আমরা দায়িত্বে থাকাকালে সমিতির একাউন্টে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা রেখেছি। পরে তারা দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে আরও ১৪ মাসের ভাড়ার টাকা জমা হওয়ার কথা।”

উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন,
“এই মার্কেট হোমনা উপজেলার ৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পদ। এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নতুবা শিক্ষক সমিতির প্রতি শিক্ষকদের আস্থা হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানাই।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
“আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। নিয়ম মেনেই ব্যয় করছি, সব খরচের বিল–ভাউচার রয়েছে। বরং অভিযোগকারীদের সময়েই কোনো সঠিক হিসাব ছিল না।”

কুমিল্লার হোমনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৮ বছর ধরে তিনি সমিতির মার্কেট থেকে প্রাপ্ত দোকানভাড়া ও অগ্রিম জামানতের টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা

হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি ও হোমনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মুসলেহ উদ্দিন সমিতির জায়গা দখল করে নির্মিত শিক্ষক সমিতি মার্কেটের দোকানগুলো থেকে ভাড়া বাবদ আনুমানিক ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং দোকান মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম জামানত বাবদ ২২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এই টাকার কোনো অংশই সমিতির নামে খোলা সরকারি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট নং–১৩১৭১০০০০৩৬৯২, হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি) এ জমা দেননি।

বরং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক–এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেছেন, যা সমিতির নিয়মবিরুদ্ধ ও সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০১৯ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ও তিনি পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম ভূঁইয়া-এর কাছে কোনো আর্থিক হিসাব বুঝিয়ে দেননি।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “সমিতির সদস্যদের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

অভিযুক্ত মোঃ মুসলেহ উদ্দিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,
“হোমনা শিক্ষক সমিতির অবৈধ কমিটির ৩৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আমি নিজেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে করেছিলাম। কিন্তু শুনানির দিন বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনা সভাপতিসহ নির্বাচিত সদস্যদের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়েছে এবং তাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে হিসাব খুলে লেনদেন করা হয়েছিল। সব আর্থিক হিসাব সংরক্ষিত আছে।”

তিনি অভিযোগটিকে “হাস্যকর ও মানহানিকর” বলে নিন্দা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রথম অভিযোগের শুনানি চলাকালীন দ্বিতীয় অভিযোগও পেয়েছি। দুটি অভিযোগ একই বিষয়ের ওপর। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনও হতে পারে, তারা তাদের খরচের হিসাব সবার সামনে উপস্থাপন করবেন।”

শিক্ষক সমাজের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় গণ্যমান্যদের মতে, “শিক্ষক নেতারা এখন শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে সমিতির কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি ব্যস্ত।”

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকদের ৩৫তম রিফ্রেশার্স কোর্স শুরু

হোমনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে ৯৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

হোমনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে ৯৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ!

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একাংশের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভিটিকালমিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি হোমনা উপজেলা শাখা মো. মুসলেহ উদ্দিন ১৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম, হাসান উদ্দিন মোল্লা, মো. ইমান উদ্দিন, মো. ইকবাল হোসেন, জামির হোসেন, মো. মহসীন ও প্রধান শিক্ষক মো. শাহীনসহ কয়েকজন শিক্ষক “বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি”র নামে একটি ভুয়া ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অফিস দখল করেন।

পরবর্তীতে তারা সমিতির হিসাব থেকে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং মার্কেটের ১৪ মাসের ভাড়া বাবদ আরও প্রায় ১৪ লাখ টাকা সাধারণ শিক্ষকদের অনুমোদন বা রেজুলেশন ছাড়াই বেআইনিভাবে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৬২ সালে হোমনা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক চাঁদা থেকে সংগৃহীত অর্থে উপজেলা সদরে ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দোকান বরাদ্দে শিক্ষক পরিবারের অগ্রাধিকার থাকার কথা থাকলেও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষক পরিবারের সদস্যকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান,
“কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, শিক্ষক সমাজের কল্যাণের নামে সমিতি দখল করে ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করছেন। অথচ এই কমিটি সাধারণ শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত নয়, এমনকি অনুমোদিতও নয়। সমিতিতে অনেক শিক্ষকের নাম সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাদের অনেকে বিষয়টি জানেনই না। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত করে, তাহলে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে কথিত সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম থাকা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
“আমি এই সমিতির সাথে যুক্ত নই। আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেনে আমি জড়িত নই।”
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ভূঁইয়া বলেন,

“আমরা দায়িত্বে থাকাকালে সমিতির একাউন্টে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা রেখেছি। পরে তারা দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে আরও ১৪ মাসের ভাড়ার টাকা জমা হওয়ার কথা।”

উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন,
“এই মার্কেট হোমনা উপজেলার ৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পদ। এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নতুবা শিক্ষক সমিতির প্রতি শিক্ষকদের আস্থা হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানাই।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
“আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। নিয়ম মেনেই ব্যয় করছি, সব খরচের বিল–ভাউচার রয়েছে। বরং অভিযোগকারীদের সময়েই কোনো সঠিক হিসাব ছিল না।”

কুমিল্লার হোমনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৮ বছর ধরে তিনি সমিতির মার্কেট থেকে প্রাপ্ত দোকানভাড়া ও অগ্রিম জামানতের টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা

হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি ও হোমনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মুসলেহ উদ্দিন সমিতির জায়গা দখল করে নির্মিত শিক্ষক সমিতি মার্কেটের দোকানগুলো থেকে ভাড়া বাবদ আনুমানিক ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং দোকান মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম জামানত বাবদ ২২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এই টাকার কোনো অংশই সমিতির নামে খোলা সরকারি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট নং–১৩১৭১০০০০৩৬৯২, হোমনা থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি) এ জমা দেননি।

বরং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক–এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেছেন, যা সমিতির নিয়মবিরুদ্ধ ও সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০১৯ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ও তিনি পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম ভূঁইয়া-এর কাছে কোনো আর্থিক হিসাব বুঝিয়ে দেননি।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “সমিতির সদস্যদের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

অভিযুক্ত মোঃ মুসলেহ উদ্দিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,
“হোমনা শিক্ষক সমিতির অবৈধ কমিটির ৩৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আমি নিজেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে করেছিলাম। কিন্তু শুনানির দিন বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনা সভাপতিসহ নির্বাচিত সদস্যদের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়েছে এবং তাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে হিসাব খুলে লেনদেন করা হয়েছিল। সব আর্থিক হিসাব সংরক্ষিত আছে।”

তিনি অভিযোগটিকে “হাস্যকর ও মানহানিকর” বলে নিন্দা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রথম অভিযোগের শুনানি চলাকালীন দ্বিতীয় অভিযোগও পেয়েছি। দুটি অভিযোগ একই বিষয়ের ওপর। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনও হতে পারে, তারা তাদের খরচের হিসাব সবার সামনে উপস্থাপন করবেন।”

শিক্ষক সমাজের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় গণ্যমান্যদের মতে, “শিক্ষক নেতারা এখন শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে সমিতির কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি ব্যস্ত।”