০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত মন্তব্যে ঘাটের দায়িত্ব হারালেন ম্যাজিস্ট্রেট

বিতর্কিত মন্তব্যে ঘাটের দায়িত্ব হারালেন ম্যাজিস্ট্রেট

মোঃ মোহন মিয়া জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ঘটনার পরপরই তাকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির তিন বছর পূর্তিতে স্মরণসভা আয়োজন করা হয়। ২০২২ সালের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭১ জন মানুষ, যা এখনও স্থানীয়দের মনে গভীর বেদনা হয়ে আছে। এ উপলক্ষে স্মরণসভা ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা নৌকায় ওঠার চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান তাদের বাধা দেন। অথচ একই সময়ে মোটরসাইকেল ও সাধারণ যাত্রী নিয়ে বেশ কয়েকটি নৌকা পারাপার হচ্ছিল। এমন বৈষম্যমূলক আচরণে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুললে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ সমতুল্য।

শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকেরা অপমানিত বোধ করেন। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি এমন আচরণ শুধু অপমানজনকই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার জন্য অনভিপ্রেত দৃষ্টান্ত।

ঘটনার সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ঘটনাটিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে আখ্যা দেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা মানুষের জন্য কাজ করেন, আর তাদের দায়িত্ব পালনকালে এভাবে ‘সন্ত্রাসী’ বলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

এ ঘটনায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, সহকারী কমিশনার মো. তাহমিদুর রহমানকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে, পুরো ঘটনায় পঞ্চগড় জেলায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন অপ্রত্যাশিত আচরণে সাধারণ মানুষও বিস্মিত। অনেকেই মনে করছেন, সাংবাদিকদের প্রতি শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকদের ৩৫তম রিফ্রেশার্স কোর্স শুরু

বিতর্কিত মন্তব্যে ঘাটের দায়িত্ব হারালেন ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিতর্কিত মন্তব্যে ঘাটের দায়িত্ব হারালেন ম্যাজিস্ট্রেট

মোঃ মোহন মিয়া জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ঘটনার পরপরই তাকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির তিন বছর পূর্তিতে স্মরণসভা আয়োজন করা হয়। ২০২২ সালের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭১ জন মানুষ, যা এখনও স্থানীয়দের মনে গভীর বেদনা হয়ে আছে। এ উপলক্ষে স্মরণসভা ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা নৌকায় ওঠার চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান তাদের বাধা দেন। অথচ একই সময়ে মোটরসাইকেল ও সাধারণ যাত্রী নিয়ে বেশ কয়েকটি নৌকা পারাপার হচ্ছিল। এমন বৈষম্যমূলক আচরণে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুললে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ সমতুল্য।

শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকেরা অপমানিত বোধ করেন। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি এমন আচরণ শুধু অপমানজনকই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার জন্য অনভিপ্রেত দৃষ্টান্ত।

ঘটনার সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ঘটনাটিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে আখ্যা দেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা মানুষের জন্য কাজ করেন, আর তাদের দায়িত্ব পালনকালে এভাবে ‘সন্ত্রাসী’ বলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

এ ঘটনায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, সহকারী কমিশনার মো. তাহমিদুর রহমানকে করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে, পুরো ঘটনায় পঞ্চগড় জেলায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন অপ্রত্যাশিত আচরণে সাধারণ মানুষও বিস্মিত। অনেকেই মনে করছেন, সাংবাদিকদের প্রতি শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।