পরকীয়াতে বাঁধা দেওয়ায় গৃহবধুকে নির্যাতন
বুকে পা চেপে ধরে মোবাইলে বাবাকে শুনানো হয় চিৎকারের আওয়াজ
হাতিয়া প্রতিনিধি:
পরকীয়াতে বাঁধা দেওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু। বেধে ফেলে খাটের পায়ার সাথে, মুখে ওড়না বেঁধে চিৎকার বন্ধ করার পর বেদম মারধর করা হয় তাকে। একপর্যায়ে বুকের উপর পা তুলে চেপে ধরা হয়। নির্যাতনের ভয়াবহ আওয়াজ মোবাইল ফোনে শুনানো হয় ওই গৃহবধুর পিতাকে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গৃহবধুকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি মহিলা ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
নির্যাতিতার নাম ফারজানা বেগম (২৬)। তার দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। ফারজানা জানান, প্রায় সাত বছর আগে তার বিয়ে হয় আবদুল গণির সাথে। বিয়ের পর থেকে স্বামী বারবার যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিলেও চাহিদা শেষ হয়নি। পরবর্তীতে আব্দুল গনি পাশের বাড়ির এক বিধবা মামাতো বোনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বাধা দিলে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো।
ঘটনার দিন আব্দুল গনি বাড়িতে এসে পরকীয়া সম্পর্কিত নারীটির বাড়ি গেলে ফারজানা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাজারে চলে যান। পরে রাতে স্বামী বাড়ি ফিরে মা, বাবা ও ভাইয়ের সহায়তায় ফারজনাকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফেলেন। এরপর তাকে খাটের সাথে বেঁধে মুখে কাপড় বেঁধে অমানুষিকভাবে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে বুকের উপর পা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে চিৎকারের শব্দ মোবাইল ফোনে শুনানো হয় ফারজনার বাবাকে।
ফারজানার বাবা মো. হানিফ বলেন,
“বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্য যা পারি দিয়েছি। তবুও অত্যাচার থামেনি। এমনকি মেয়েকে মারধর করে তার চিৎকার আমাকে মোবাইল ফোনে শুনিয়েছে। আমাকে হুমকি দিয়েছে যেন আমি তাদের বাড়িতে না যাই।”
তিনি জানান, থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ রাতেই গিয়ে ফারজনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন,
“আব্দুল গণির পরিবারের সাথে কলহ দীর্ঘদিনের। শনিবার এ বিষয়ে শালিশের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে মেয়ের বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের খবর জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে গৃহবধুকে উদ্ধার করে।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার এসআই প্রতিক পাল জানান,
“এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ আসে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 










