১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় মেয়েকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে দেন মা-বাবা

  • অনলাইন ডেস্ক:
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ জন পড়েছেন

খুলনায় মেয়েকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে দেন মা-বাবা

অনলাইন ডেস্ক:

খুলনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে অন্য স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গত ৮ জুলাই নগরীর নিরালা প্রান্তিক আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহত কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা, যিনি নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দশম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের মা সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সীমা জানান যে নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। পরে রনি নামে আরেক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগে টানা তিন দিন বাড়ির বাইরে থাকায় পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার রাতে মা-মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে সীমা মেয়েকে মারধর করেন। একপর্যায়ে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মা-বাবা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে অন্যত্র ফেলে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন এবং ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে আকাশ ও সীমা দুজনই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আকাশকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষিকা দীপার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

খুলনায় মেয়েকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে দেন মা-বাবা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

খুলনায় মেয়েকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে দেন মা-বাবা

অনলাইন ডেস্ক:

খুলনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে অন্য স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গত ৮ জুলাই নগরীর নিরালা প্রান্তিক আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহত কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা, যিনি নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দশম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের মা সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সীমা জানান যে নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। পরে রনি নামে আরেক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগে টানা তিন দিন বাড়ির বাইরে থাকায় পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার রাতে মা-মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে সীমা মেয়েকে মারধর করেন। একপর্যায়ে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মা-বাবা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে অন্যত্র ফেলে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন এবং ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে আকাশ ও সীমা দুজনই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আকাশকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।