০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাকসু নির্বাচন: নবীনদের ভোটে নতুন সমীকরণে সরগরম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাকসু নির্বাচন: নবীনদের ভোটে নতুন সমীকরণে সরগরম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অপু দাস স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ছিল প্রচারণার শেষ দিন। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, স্লোগান ও কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

নবীনদের আগমনেই নতুন প্রাণ ক্যাম্পাসে

সোমবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংলগ্ন এলাকায় দিনভর নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। প্রার্থীরা সারাদিন নবীনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় কাটান।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের মিলনায়তনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও মিলনায়তনের বাইরে ছিল ভোট চাইবার উচ্ছ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বন্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার হাজার নতুন শিক্ষার্থী এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। এই নবীন শিক্ষার্থীরাই প্রথমবারের মতো রাকসু নির্বাচনে ভোট দেবেন—যা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্মের দাবি: “নবীন ভোট আমাদেরই প্রাপ্তি”

ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলটি ছিল প্রচারণায় সবচেয়ে সক্রিয়। ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন,

> “নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলন করেছি। তাই তাদের সমর্থন আমাদের দিকেই থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তাঁর দাবি, এই ভোটাধিকার পুনঃপ্রাপ্তি আসলে তাদের আন্দোলনেরই সাফল্য। একই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষাও বলেন,

> “নবীনদের সাড়া দারুণ। তারা অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতি আগ্রহী। আমরা আশাবাদী।”

প্রচারণায় সংস্কৃতির ছোঁয়া

প্রচারণার ভিন্ন মাত্রা আনেন সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার আলম। তিনি বাউলের সাজে সমর্থকদের নিয়ে পরিবহন মার্কেটের আমচত্বরে আয়োজন করেন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে—

> “মিলন হবে কত দিনে…”

এ আয়োজন শুধু ভোটারদের আকর্ষণই করেনি, বরং প্রচারণায় যুক্ত করেছে সাংস্কৃতিক প্রাণবন্ততা।

মাঠে সক্রিয় অন্য প্যানেলগুলোও

অন্যদিকে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল, সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রচারণায় ছিলেন সক্রিয়। প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মনোনিবেশ করেন।
ক্যাম্পাসের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটের ভিড়ে রাকসু নির্বাচন এখন পুরোপুরি উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষণ: নবীন ভোটই হতে পারে নির্বাচনের গেমচেঞ্জার

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নবীন ভোটার ফ্যাক্টর।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তারা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছেন সংগঠন নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।

একজন শিক্ষক পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেন,

> “নবীনদের ভোট এবারের নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ তারা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত।”

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন,
> “নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।”
গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণে শিক্ষার্থীদের আশা

দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই রাকসু নির্বাচনকে শিক্ষার্থীরা দেখছেন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পুনর্জাগরণ হিসেবে।
তাদের মতে, এটি কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং ছাত্রসমাজের মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের এক ঐতিহাসিক পুনরাবির্ভাব।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকদের ৩৫তম রিফ্রেশার্স কোর্স শুরু

রাকসু নির্বাচন: নবীনদের ভোটে নতুন সমীকরণে সরগরম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

রাকসু নির্বাচন: নবীনদের ভোটে নতুন সমীকরণে সরগরম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অপু দাস স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ছিল প্রচারণার শেষ দিন। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, স্লোগান ও কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

নবীনদের আগমনেই নতুন প্রাণ ক্যাম্পাসে

সোমবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংলগ্ন এলাকায় দিনভর নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। প্রার্থীরা সারাদিন নবীনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় কাটান।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের মিলনায়তনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও মিলনায়তনের বাইরে ছিল ভোট চাইবার উচ্ছ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বন্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার হাজার নতুন শিক্ষার্থী এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। এই নবীন শিক্ষার্থীরাই প্রথমবারের মতো রাকসু নির্বাচনে ভোট দেবেন—যা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্মের দাবি: “নবীন ভোট আমাদেরই প্রাপ্তি”

ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলটি ছিল প্রচারণায় সবচেয়ে সক্রিয়। ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন,

> “নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলন করেছি। তাই তাদের সমর্থন আমাদের দিকেই থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তাঁর দাবি, এই ভোটাধিকার পুনঃপ্রাপ্তি আসলে তাদের আন্দোলনেরই সাফল্য। একই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষাও বলেন,

> “নবীনদের সাড়া দারুণ। তারা অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতি আগ্রহী। আমরা আশাবাদী।”

প্রচারণায় সংস্কৃতির ছোঁয়া

প্রচারণার ভিন্ন মাত্রা আনেন সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার আলম। তিনি বাউলের সাজে সমর্থকদের নিয়ে পরিবহন মার্কেটের আমচত্বরে আয়োজন করেন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে—

> “মিলন হবে কত দিনে…”

এ আয়োজন শুধু ভোটারদের আকর্ষণই করেনি, বরং প্রচারণায় যুক্ত করেছে সাংস্কৃতিক প্রাণবন্ততা।

মাঠে সক্রিয় অন্য প্যানেলগুলোও

অন্যদিকে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল, সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রচারণায় ছিলেন সক্রিয়। প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মনোনিবেশ করেন।
ক্যাম্পাসের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটের ভিড়ে রাকসু নির্বাচন এখন পুরোপুরি উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষণ: নবীন ভোটই হতে পারে নির্বাচনের গেমচেঞ্জার

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নবীন ভোটার ফ্যাক্টর।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তারা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছেন সংগঠন নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।

একজন শিক্ষক পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেন,

> “নবীনদের ভোট এবারের নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ তারা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত।”

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন,
> “নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।”
গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণে শিক্ষার্থীদের আশা

দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই রাকসু নির্বাচনকে শিক্ষার্থীরা দেখছেন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পুনর্জাগরণ হিসেবে।
তাদের মতে, এটি কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং ছাত্রসমাজের মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের এক ঐতিহাসিক পুনরাবির্ভাব।