০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎সিজার অপারেশনে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু: রাব্বি ক্লিনিক সিলগালা

‎সিজার অপারেশনে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু: রাব্বি ক্লিনিক সিলগালা
‎স্টাফ রিপোর্টার:  মোঃ নাইম বিন রফিক  মংলা উপজেলা প্রতিনিধ

‎বাগেরহাটের মোংলা মাদ্রাসা রোডের রাব্বি ক্লিনিকে সিজার অপারেশন চলাকালে বৃষ্টি বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি মোংলা সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিন শেখের স্ত্রী।

‎শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সিজার অপারেশন শুরু হয়। ক্লিনিকের মালিক এনামুল, ডাক্তার মামুন এবং এনামুলের ছেলে অপারেশনে উপস্থিত ছিলেন। নবজাতককে বের করার পরপরই বৃষ্টি বেগমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে ক্লিনিকের মালিক এনামুলসহ উপস্থিত স্টাফ ও নার্সরা ক্লিনিক ফেলে পালিয়ে যান। চিকিৎসাহীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পরই মারা যান বৃষ্টি বেগম।

‎খবর পেয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার শাহীনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে। এসময় সেখানে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।

‎ঘটনার পর মোংলা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানা ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা করে; তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

‎স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এনামুলের অবহেলায় এর আগেও রাব্বি ক্লিনিকে একাধিক রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু সবসময় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি পার পেয়ে যান। তারা শুধু সিলগালাই নয়—এ ক্লিনিকের স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল ও বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত রাতুল ক্লিনিকসহ অনুমোদনহীন সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

‎বৃষ্টি বেগমের স্বজনরা জানান, এমন নির্মম মৃত্যুর দায় ক্লিনিক মালিক এনামুল কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার শাহীন বলেন—অভিজ্ঞ ডাক্তার, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া কোনো ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করার সুযোগ নেই। নিয়ম ভঙ্গ ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

‎স্থানীয়দের মতে, মোংলায় অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন মৃত্যুর মিছিল থামবে না।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হোমনার নিলখী সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা

‎সিজার অপারেশনে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু: রাব্বি ক্লিনিক সিলগালা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

‎সিজার অপারেশনে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু: রাব্বি ক্লিনিক সিলগালা
‎স্টাফ রিপোর্টার:  মোঃ নাইম বিন রফিক  মংলা উপজেলা প্রতিনিধ

‎বাগেরহাটের মোংলা মাদ্রাসা রোডের রাব্বি ক্লিনিকে সিজার অপারেশন চলাকালে বৃষ্টি বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি মোংলা সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিন শেখের স্ত্রী।

‎শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সিজার অপারেশন শুরু হয়। ক্লিনিকের মালিক এনামুল, ডাক্তার মামুন এবং এনামুলের ছেলে অপারেশনে উপস্থিত ছিলেন। নবজাতককে বের করার পরপরই বৃষ্টি বেগমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে ক্লিনিকের মালিক এনামুলসহ উপস্থিত স্টাফ ও নার্সরা ক্লিনিক ফেলে পালিয়ে যান। চিকিৎসাহীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পরই মারা যান বৃষ্টি বেগম।

‎খবর পেয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার শাহীনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে। এসময় সেখানে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।

‎ঘটনার পর মোংলা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানা ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা করে; তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

‎স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এনামুলের অবহেলায় এর আগেও রাব্বি ক্লিনিকে একাধিক রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু সবসময় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি পার পেয়ে যান। তারা শুধু সিলগালাই নয়—এ ক্লিনিকের স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল ও বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত রাতুল ক্লিনিকসহ অনুমোদনহীন সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

‎বৃষ্টি বেগমের স্বজনরা জানান, এমন নির্মম মৃত্যুর দায় ক্লিনিক মালিক এনামুল কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার শাহীন বলেন—অভিজ্ঞ ডাক্তার, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া কোনো ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করার সুযোগ নেই। নিয়ম ভঙ্গ ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

‎স্থানীয়দের মতে, মোংলায় অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন মৃত্যুর মিছিল থামবে না।