১২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনায় এশিয়া জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

হোমনায় এশিয়া জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে অবস্থিত এশিয়া জেনারেল হাসপাতাল (ইউনিট-২)-এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা এবং রোগীর চিকিৎসা নথি সংরক্ষণ ও সেবাদানে বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ায় এ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে হাসপাতালটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার সময় সেবাদানে একাধিক ত্রুটি ও প্রশাসনিক অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা রোগীদের চিকিৎসা নথি, ট্রিটমেন্ট শিট এবং পরবর্তী পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া ইনডোর রোগীদের নিবন্ধন খাতায়ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত তথ্য পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে হাসপাতালটির লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ছাড়া পরিচালিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়।

এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয় যাচাই ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম মানিক।

এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ওবায়দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে হোমনা থানা পুলিশের একটি দল।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্স এবং সরকারি বিধি-বিধান প্রতিপালন বাধ্যতামূলক। পরিদর্শনের সময় চিকিৎসা নথি সংরক্ষণ ও রোগীসেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, একটি নিবন্ধিত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীদের তথ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সংরক্ষণ করা আবশ্যক। পরিদর্শনে সিজার-পরবর্তী রোগী পরিচর্যা ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু ঘাটতি পাওয়া গেছে। উপজেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযান শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

ট্যাগ

মিথ্যা মামলা ও হেনস্তার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করলেন সাংবাদিক দিদার হোসেন

হোমনায় এশিয়া জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

হোমনায় এশিয়া জেনারেল হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে অবস্থিত এশিয়া জেনারেল হাসপাতাল (ইউনিট-২)-এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা এবং রোগীর চিকিৎসা নথি সংরক্ষণ ও সেবাদানে বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ায় এ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে হাসপাতালটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার সময় সেবাদানে একাধিক ত্রুটি ও প্রশাসনিক অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা রোগীদের চিকিৎসা নথি, ট্রিটমেন্ট শিট এবং পরবর্তী পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া ইনডোর রোগীদের নিবন্ধন খাতায়ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত তথ্য পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে হাসপাতালটির লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ছাড়া পরিচালিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়।

এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয় যাচাই ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম মানিক।

এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ওবায়দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে হোমনা থানা পুলিশের একটি দল।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্স এবং সরকারি বিধি-বিধান প্রতিপালন বাধ্যতামূলক। পরিদর্শনের সময় চিকিৎসা নথি সংরক্ষণ ও রোগীসেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, একটি নিবন্ধিত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীদের তথ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সংরক্ষণ করা আবশ্যক। পরিদর্শনে সিজার-পরবর্তী রোগী পরিচর্যা ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু ঘাটতি পাওয়া গেছে। উপজেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযান শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।