০৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনা শিক্ষক সমিতির ‘অবৈধ কমিটি’ বাতিলে হাইকোর্টের রুল, ইউএনওকে নির্দেশনা

হোমনা শিক্ষক সমিতির ‘অবৈধ কমিটি’ বাতিলে হাইকোর্টের রুল, ইউএনওকে নির্দেশনা

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কথিত ‘অবৈধ কমিটি’ বিলুপ্ত করে বৈধ কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার দাবিতে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে দায়ের করা অভিযোগ আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন (রেজিস্ট্রেশন নং-১৫৩৬(৯৬)/৯৩)। ২০১২ সালে হোমনা উপজেলা শাখার নির্বাচন বৈধভাবে অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে একটি ‘অবৈধ কমিটি’ গঠন করে সংগঠনের কার্যালয় দখল করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ও মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে রিটকারী পক্ষ এ কমিটিকেও ‘জালিয়াতিপূর্ণ ও অবৈধ’ বলে দাবি করেছে।

সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন ভিটি কালমিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মুসলেহ উদ্দিন। দীর্ঘ সময় প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-১৭৪৫৪/২০২৫) দায়ের করেন।

রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল নিশি জারি করে জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীর অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ইউএনওর নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধ কমিটি বাতিল করে কেন বৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

রিট আবেদনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালত বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ভূঁইয়া। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইউএনওকে আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর অভিযোগটি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

রিটকারী মোঃ মুসলেহ উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা সমিতির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আদালতের নির্দেশে সাধারণ শিক্ষকরা তাদের বৈধ নেতৃত্ব ফিরে পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

অন্যদিকে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সমিতির বিষয়টি প্রশাসনের সরাসরি আওতাধীন নয় এবং ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। এখনো আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পাইনি। নোটিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় উপজেলার কয়েকশ প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশনার পর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নছিমন উল্টে চালকের মৃত্যু

হোমনা শিক্ষক সমিতির ‘অবৈধ কমিটি’ বাতিলে হাইকোর্টের রুল, ইউএনওকে নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

হোমনা শিক্ষক সমিতির ‘অবৈধ কমিটি’ বাতিলে হাইকোর্টের রুল, ইউএনওকে নির্দেশনা

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কথিত ‘অবৈধ কমিটি’ বিলুপ্ত করে বৈধ কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার দাবিতে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে দায়ের করা অভিযোগ আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন (রেজিস্ট্রেশন নং-১৫৩৬(৯৬)/৯৩)। ২০১২ সালে হোমনা উপজেলা শাখার নির্বাচন বৈধভাবে অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে একটি ‘অবৈধ কমিটি’ গঠন করে সংগঠনের কার্যালয় দখল করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ও মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে রিটকারী পক্ষ এ কমিটিকেও ‘জালিয়াতিপূর্ণ ও অবৈধ’ বলে দাবি করেছে।

সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন ভিটি কালমিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মুসলেহ উদ্দিন। দীর্ঘ সময় প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-১৭৪৫৪/২০২৫) দায়ের করেন।

রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল নিশি জারি করে জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীর অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ইউএনওর নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধ কমিটি বাতিল করে কেন বৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

রিট আবেদনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালত বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ভূঁইয়া। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইউএনওকে আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর অভিযোগটি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

রিটকারী মোঃ মুসলেহ উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা সমিতির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আদালতের নির্দেশে সাধারণ শিক্ষকরা তাদের বৈধ নেতৃত্ব ফিরে পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

অন্যদিকে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সমিতির বিষয়টি প্রশাসনের সরাসরি আওতাধীন নয় এবং ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। এখনো আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পাইনি। নোটিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় উপজেলার কয়েকশ প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশনার পর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।