ভাঙ্গা গোল চত্বরে ইসির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, অবরোধে জনদুর্ভোগ চরমে

এস এম আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা গোল চত্বরে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ চলছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আগলি ও হামেরদি ইউনিয়নকে নগরকান্দা উপজেলায় সংযুক্ত করার প্রতিবাদে এ আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে আন্দোলনকারীরা জানান।

অবরোধের কারণে ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে শত শত গাড়ি দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকে। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অনেকেই তীব্র গরমে রাস্তায় কষ্ট পোহাতে বাধ্য হন। ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

আজকের ঝাড়ু মিছিলে অংশ নেন ভাঙ্গা উপজেলার নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের গণশুনানি বা স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জীবন থাকতে আমরা আগলি ও হামেরদি ইউনিয়নবাসী নগরকান্দা তথা ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত হব না। যে কোনো মূল্যে ইসিকে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।”

এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আলী আশরাফ নান্নু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আন্দোলনকারীরা। বক্তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়াবে না, বরং জনগণের মধ্যে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী অংশ নেন। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তারা ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।

অবরোধ ও মিছিল ঘিরে পুরো ভাঙ্গা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ ও আন্দোলন চলবে।