বাগেরহাটে আসন কর্তন নিয়ে সর্বদলীয় কমিটির বিক্ষোভ মিছিল
স্টাফ রিপোর্টার: মুহা. নাঈম বিন রফিক
বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কর্তন করে তিনটিতে রূপান্তর করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বদলীয় কমিটির উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মংলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ মিছিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শ্লোগান দিতে দিতে তারা বলেন— “চারটি আসন চাই, অন্যায় মানি না।”
পরে মংলা পৌর মার্কেট চত্বরে এক সমাবেশে মিলিত হন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, “বাগেরহাটের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় চারটি আসন থাকা যৌক্তিক। অথচ নির্বাচন কমিশন (ইসি) অন্যায্যভাবে একটি আসন কেটে দিয়েছে। এটি বাগেরহাটবাসীর প্রতি অবিচার এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বাগেরহাট একটি শিল্পনগরী ও নদীবন্দরনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এ জেলার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হলে আমরা তা মেনে নেব না।”
সমাবেশ থেকে সর্বদলীয় কমিটি ইসিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, “চারটি আসন ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
তারা ঘোষণা দেন, আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিন হরতাল পালন করা হবে। বক্তারা হরতাল সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, তবে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
মিছিল ও সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। মংলার প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েক ঘণ্টা শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন কর্তনের সিদ্ধান্ত বাগেরহাটের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং সর্বদলীয় কমিটির আন্দোলন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।