হোমনার মনিপুরে মা-ছেলে-ভাতিজা হত্যা: ৬ মাস পর ছুরি, ব্যাগ ও চাবি উদ্ধার

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুরে প্রবাসীর স্ত্রী, ছেলে ও ভাতিজা হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস পর বাড়ির পাশের ড্রেজিংয়ের বালুর স্তূপের নিচ থেকে একটি ছুরি এবং নিহতদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া দুটি কালো ব্যাগ, একগোছা চাবি ও একটি ছোট তালা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন মামলাটিতে নতুন করে আলামত যুক্ত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া। তিনি জানান, উদ্ধার করা আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না এবং থাকলে তা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তর মনিপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী জহিরুল ইসলামের বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে ওই বাড়ি থেকে জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী, চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং তাঁর ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী আবদুস সাত্তারের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেপ্তার বা হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রায় ছয় মাস পর বাড়ির পাশের বালুর স্তূপের নিচ থেকে ছুরি এবং নিহতদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া বলে উল্লেখ করা দুটি ব্যাগ, একগোছা চাবি ও একটি তালা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এলো। এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ এখনো হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা উদ্ধার হওয়া আলামত থেকে কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ ঘটনায় দায়ী করা সমীচীন নয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। নতুন আলামত উদ্ধারের ফলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।