হোমনায় দিনে-দুপুরে তালা ভেঙে বাসায় চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

মোঃ আবুল কালাম আজাদ:

কুমিল্লার হোমনা পৌর সদরে দিনে-দুপুরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি ভাড়া বাসার দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে হোমনা পৌরসভার অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. বিল্লাল হোসেনের হোমনা পল্লী বিদ্যুৎ রোডের মসজিদ-সংলগ্ন দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কর্মস্থলে ছিলেন এবং ছেলে-মেয়েরা স্কুলে। এ সুযোগে চোরের দল বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। স্কুল থেকে ফিরে তাঁর মেয়ে আদিবা বাসার দরজা খোলা দেখতে পেয়ে নিচে নেমে একটি দোকান থেকে তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে তিনি বাসায় এসে দেখেন, আলমারির দরজা খোলা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আলমারিতে থাকা প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ১ লাখ ৩০হাজার টাকা চুরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসার লোকজন বাইরে থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারি ও কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে মূল্যবান মালামাল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি একে একে বাড়ির গেইট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তবে ফুটেজে তাদের পরিচয় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনাস্থলের ছবিতেও আলমারির দরজা খোলা, কক্ষের বিভিন্ন স্থানে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং তছনছের চিহ্ন দেখা গেছে, যা চুরির ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, “চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”