জলঢাকায় পৌর হাটবাজারের পুনরায় উম্মুক্ত ইজারা দাবিতে মানববন্ধন।
রাষ্ট্রের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সরকারি রাজস্ব আহরণ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আর স্থানীয় পর্যায়ে রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাটবাজারের ইজারা। কিন্তু নীলফামারীর জলঢাকায় সেই রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া নিয়েই এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত স্বেচ্ছাচারিতা ও হাটবাজারের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি করেছে, তা জনস্বার্থেই নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার জলঢাকা জিরোপয়েন্ট চত্বরে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকরা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছেন, তা নির্দেশ করে যে সাধারণ মানুষ ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দেখতে চান।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অস্বচ্ছতা
মানবন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের প্রধান অভিযোগ—আসন্ন বাংলা নববর্ষ এবং মৌসুমী হাটবাজারগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায় সরকারি নিয়মকানুনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই গোপনীয়তার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদি ইজারা প্রক্রিয়া উন্মুক্ত না হয়, তবে সরকার ন্যায্য রাজস্ব থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থায় চিড় ধরে।
জনপ্রত্যাশা ও উত্তরণের পথ
প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরির দায়িত্ব প্রশাসনেরই। হাটবাজার ইজারা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং স্থানীয় অর্থনীতির সাথে জড়িত। নাগরিক সমাজের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক—’গোপন ও যোগসাজশি’ প্রক্রিয়ার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় উন্মুক্ত (ওপেন) টেন্ডার আহ্বান। এটি কেবল আইনের দাবি নয়, বরং সুশাসনের অপরিহার্য শর্ত।
জনগণ এখন প্রশাসনের ওপর নজর রাখছে। আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে যদি পুনরায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হয়, তবে আন্দোলন আরও বেগবান হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাগরিক সমাজ। একই সাথে ইজারা প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছেন সচেতন মহল,
স্থানীয় প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। জলঢাকার সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে। স্বচ্ছতার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক—এটাই আজকের জলঢাকার একমাত্র দাবি।