হোমনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীর মহাঅষ্টমী পূজা উদযাপিত।
দীপক চন্দ্র দেব, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীর মহাঅষ্টমী পূজা। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই হোমনা পৌর মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ধর্মীয় আচার ও অঞ্জলি: চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই পবিত্র তিথিতে দেবী দুর্গার বসন্তকালীন আরাধনায় মগ্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মহাঅষ্টমীর সকালে স্নান সেরে নতুন পোশাকে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। পূজার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল কুমারী পূজা ও বিশেষ আরতি। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং বিশ্বশান্তি কামনায় ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন।
বাসন্তী পূজার পৌরাণিক প্রেক্ষাপট: পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার আদি রূপ হলো এই বাসন্তী পূজা। রাজা সুরথ এবং সমাধি নামক এক বৈশ্য নিজেদের হারানো রাজ্য ও সুখ ফিরে পেতে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিলেন।
বসন্তকালে এই পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি ‘বাসন্তী পূজা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে (শরৎকালে) দেবীর বোধন করার আগে পর্যন্ত এই চৈত্র মাসেই পালিত হতো মূল দুর্গাপূজা।
রাজা সুরথের উপাখ্যান: মার্কণ্ডেয় পুরাণ ও দেবী মাহাত্ম্য অনুযায়ী, চিত্রগুপ্তবংশী রাজা সুরথ ছিলেন এক অপরাজেয় যোদ্ধা ও সুশাসক। তবে প্রতিবেশী রাজ্যের কাছে পরাজিত হয়ে এবং নিজ সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতায় রাজ্য হারিয়ে তিনি বনে আশ্রয় নেন। সেখানেই সমাধি বৈশ্যের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়, যিনি নিজ পরিবার কর্তৃক বিতাড়িত হয়েছিলেন। ঋষি মেধসের উপদেশে তারা দুজনেই মহামায়ার কঠিন তপস্যা শুরু করেন। দেবী প্রসন্ন হয়ে তাদের আশীর্বাদ করলে রাজা সুরথ বসন্তকালে প্রথম এই পূজার প্রচলন করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: এক সময় এই পূজা কেবল রাজপরিবার বা বনেদি পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এর ব্যাপ্তি বেড়েছে। এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত ভক্তিভরে এই বাসন্তী পূজা উদযাপন করে আসছেন।
হোমনা পৌর মহাশ্মশানে আয়োজিত এই পূজা উপলক্ষে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।