কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে
বসতবাড়ি ভাংচুর মালামাল লুটপাট সহ রক্তাক্ত জখম \ থানায় অভিযোগ
মোঃ আব্দুল আজিজ ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসায় ইউনিয়নের চরসিতাইঝাড় ভাটলার পাড় ব্যাপারী পাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত আউয়াল ব্যাপারীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলমের বসতবাড়ি ভাংচুর মালামাল লুটপাট ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত জখম করেছে আসামী পক্ষ। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নিজে বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় ১৭ জনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসায় ইউনিয়নের চরসিতাইঝাড় ভাটলার পাড় ব্যাপারী পাড়ার বাসিন্দা মৃত আউয়াল ব্যাপারীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম। তার প্রতিবেশী বিবাদী ১। মোঃ এমমাদুল হক ২। ইয়াকুব আলী ৩। দুলু মিয়া ৪। মনছের আলী, ৫। এরশাদুল হক ৬। ফারুক হোসেন ৭। লুৎফর রহমান ৮। হক সাহেব ৯। হারুন মিয়া ১০। রবিউল ইসলাম ১১। আবু বক্কর ১২। এনামুল হক ১৩। ফেরদৌস আলী ১৪। বিজলী বেগম ১৫। কল্পনা বেগম ১৬। রত্না বেগম ১৭। আরেফা বেগম এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বাদী জাহাঙ্গীর আলম তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত এস.এ ও আর.এস রেকর্ডীয় প্রায় ৭৫ বছরের ভোগদখলীয় জমি সমূহ হালচাষ করে ভোগদখল করে আসছেন। বিবাদীগণ আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাদীকে নানা ভাবে হয়রানী ও বাদীর পরিবারে হামলা এবং বাদীর বসতবাড়ি ভাংচুর সহ নানা অপরাধ করে আসা অবস্থায় আদালতে বাদীর পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। এরই সূত্র ধরে বিবাদী পক্ষ কাউন্টার মামলা হিসেবে অভিযোগ দাখিল করেন। স্থানীয় ভাবে মোগলবাসা ইউনিয়নের সাহেব চেয়ারম্যান নুর জামাল বাবলু কয়েক দফা শালিস বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা করলেও বিবাদী পক্ষ তাহাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করে গায়ের জোড়ে অবৈধ কার্যক্রম বহাল রাখে। গত ২৮ জানুয়ারি’২০২৬ইং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিবাদী পক্ষ ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে একদল ভুক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র সহ বাদী বসতবাড়িতে হামলা করে বসতবাড়ি ভাংচুর, বাদীর পরিবারের লোকজনকে মারপিট, বাদীর ধানের বীজতলা নষ্ট এবং বাদীর ঘরে রক্ষিত নগদ ২ লক্ষ টাকা চুরি করে নেয়। এ সময় বাদী পক্ষের লোকজনকে মারপিট করলে বাদীর বড় ভাই জয়নাল আবেদীন ও বাদীর ভাবি আছিয়া বেগম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাদীপক্ষের আহত লোকজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নিজে বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের বিষয় সমূহ কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই শওকত আলম তদন্ত করছেন।