প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
==================================

মোঃ সাইফুল ইসলাম (নওগাঁ) জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দা উপজেলার শংকরপুর–পিড়াকৈর সরকারি রাস্তার দু’ধারের ২৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে ‘বিএনপি পরিচয়দানকারী নেতা ও পিড়াকৈর গ্রামের পশুচিকিৎসক সানোয়ার হোসেন’-এর নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁর বক্তব্য না নেওয়া এবং ঘটনা যাচাই না করায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে পিড়াকৈর স্কুল মোড়ে পিড়াকৈরসহ আশপাশের গ্রামের শতাধিক মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান একে এম নাজমুল হক নাজু। তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন পিড়াকৈর গ্রামের ছয় নারী উপকারভোগীর কাছেই গাছগুলো দেওয়া হয়েছিল। তারাই গাছ লাগিয়েছেন ও পরিচর্যা করেছেন। এসব গাছ ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সরকারি দপ্তরের নয়। পরিষদের অনুমতিক্রমেই উপকারভোগী ও ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে গাছগুলো বিক্রি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সানোয়ার হোসেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও সংবাদ প্রকাশের আগে তাঁর মতামত নেওয়া হয়নি। যাচাই–বাছাই ছাড়া বিএনপির নাম টেনে এনে রিপোর্ট করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। এতে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা স্পষ্ট।

মানববন্ধন আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইছাহাক আলী, বড়িমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র, পিড়াকৈর কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি আব্দুল গফুর ও কোষাধ্যক্ষ সেকেন্দার আলী। তারা বলেন,
মরাঘাটির ইউক্যালিপটাস গাছ বিক্রির টাকার অংশ পাওয়ার কথা ইউনিয়ন পরিষদ, ছয়জন নারী উপকারভোগী এবং স্থানীয় মসজিদ–মন্দিরের।

ইউপি সদস্য আনসার আলী ভুট্টো বলেন,
চেয়ারম্যানকে জানিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ, ছয় নারী উপকারভোগী এবং স্থানীয় মসজিদ–মন্দিরে দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাস্তার দু’ধারের গাছগুলোর উপকারভোগী ছয় নারী জানান, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই তারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেন। কাটার সময় যে খড়ি–পালা পাওয়া গেছে, তা তারা নিজেরাই বাড়িতে নিয়ে যান। গাছ বিক্রির অর্থ থেকে তাদের অংশ ও মসজিদ–মন্দিরে সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।

উপকারভোগী আবেদা বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গাছ পেয়ে আমরা নিজেরাই এগুলো লাগিয়েছি ও পরিচর্যা করেছি। কিন্তু বড় হওয়ার পর অনেকেই রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নিয়ে গেছে, আমরা কোনো সুফল পাইনি। তাই চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, গাছগুলো বিক্রি করলে আমাদের একটু উপকার হবে। পরে চেয়ারম্যান দায়িত্ব দেন মেম্বার আনসার আলী ভুট্টোকে। তিনি গাছগুলো বিক্রি করেন। আমরা এখনো টাকা পাইনি, কারণ ক্রেতা পুরো টাকা পরিশোধ করেনি। কিন্তু যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সেখানে সানোয়ার ভাইয়ের নাম দেখে আমরা বিস্মিত। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এই ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উপকারভোগী নাসিমা বেগম বলেন,
আমরা যা করেছি চেয়ারম্যান–মেম্বারের নির্দেশে করেছি। কারো ক্ষতি করার প্রশ্নই আসে না।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিযুক্ত হিসেবে নাম প্রকাশিত সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,
আমি দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই আমার নাম জড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার মতামত নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। কিন্তু আমার সঙ্গে একবারও যোগাযোগ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন ব্যক্তির বিষয়ে সংবাদ করতে গিয়ে পুরো দলকে হেয় করা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।