দিনাজপুরে পর্নোগ্রাফি মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই র্যাবের অভিযান
রংপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. মেহেদী হাসান (৩৩)–কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় র্যাব।
‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
কী ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি মেহেদী হাসান ও ভিকটিমের বিয়ে হয়েছিল চার বছর আগে। ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তালাকের মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। তালাকের পর আসামি ভিকটিমকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকেন। ভিকটিম রাজি না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনের সময়কার কিছু ব্যক্তিগত ছবি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ভিকটিমের ভাবির মেসেঞ্জারে পাঠান আসামি। একই সঙ্গে ওই ছবি ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।
ঘটনার পর ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় **পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২-এর ৮(২)/৮(৩)/৪ ধারায়** মামলা করেন। মামলা নং—০৭/২৬২, তারিখ—১৬ নভেম্বর ২০২৫।
র্যাবের অভিযান
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি ভাইরাল হয়। পরে র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আসামিকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
১৭ নভেম্বর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে র্যাব-১৩, সিপিসি-১–এর একটি দল দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী শহীদ মিনার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ধারাবাহিকভাবে স্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানান র্যাব কর্মকর্তারা।
পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা, সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফিসহ সকল সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।