লোহাগাড়ায় মহাসড় কে ফুটপাত বানিয়ে সাহেব বাজার, কোটি টাকা চাঁদাবাজি, যানজটে
অস্থির

নুরুল আমিন ,লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বটতলী মোটর স্টেশনের পাশে সড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার।যেটি স্হানীয়ভাবে সাহেব বাজার বলে পরিচিত।এ বাজার থেকে বছরে অন্তত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলেও জানা গেছে।

প্রতিদিন সড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে এখানে শতাধিক দোকান বসে।এ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ কালে জানা যায় দোকান থেকে দৈনিক তিন দফায় ২৫০-৫০০টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।বিশেষ করে যে দোকানের সামনে বসবে সে দোকানের মালিককে,ইজারাদারকে,পরিচ্ছন্নকর্মি, ট্রাফিক আর শহর পরিচালনা কমিটিকে।তবে শহর পরিচালনা কমিটির কয়েকজন দায়িত্ববান নেতা শহর পরিচালনা কমিটির নামে চাঁদার বিষয়টি অস্বীকার করেে নিয়মতান্ত্রিক রশিদের মাধ্যমে চাঁদা নেয়া হয় বলে জানান তারা।

চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ির বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় বইছে।

এমন ও ঘটনা ঘটেছে একজন দরিদ্র কৃষক ১০০টাকার সব্জী বিক্রী করতে এসে ৬০টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এসব দখলদার বছরের পর বছর ধরে দখল করে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের লোকজন এসে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো উঠিয়ে দিয়ে গেলেও কয়েক ঘন্টা পর তারা আবার বসে যায়।

মুলত দুপুরের পর থেকে বাজারের কার্য্যক্রম শুরু হলে ও সন্ধ্যার পর বেশ জমে উঠে।বিশেষ করে বেশিরভাগ সরকারি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারিরা এ বাজারে সওদা করে

সোমবার ১৩/১০/২০২৫ তারিখ বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বটতলী স্টেশনের পশ্চিম পাশে ব্যাংক এশিয়ার উত্তর পান্হ হতে সিকদার সেন্টার পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে প্রায় শ-খানেক দোকান বসানো হয়েছে।সন্ধ্যা হলে এর সাথে যোগ হয় মাছ ব্যবসায়ীরা। দিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে অবিক্রিত মাছগুলো এখানে এনে বিক্রি করছেন তারা।

ফুটপাত ছাপিয়ে ও সড়কে গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা সবজি, আদা,পেয়াজ,রসুন,ফলমুল, শুটকি ও কাচামাছ।
দেখে মনে হয়, মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা কোনো গ্রামীণ হাট। ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারী ও যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ফুটপাতের ওপরে কয়েকটি মাত্র দোকান ছিল। ক্রেতাদের ভিড় বাড়ায় কেনাবেচাও বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। এখন এখানে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মিলিয়ে একশোর মতো দোকান। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকালে ভ্রাম্যমাণ দোকান আরও বেড়ে যায়। তাতে প্রায় পুরো সড়ক দখল হয়ে যায়।

বটতলী শহরের এসব দোকানপাট নিয়ন্ত্রন আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটি নামে পরিচালনা করতো। ছাত্র জনতার-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত একটি কমিটি শহর পরিচালনা কমিটি নাম দিয়ে এখন পরিচালনা করছেন।অবশ্য এরা নির্বাচনবিহীন কমিটি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্কের। জানা গেছে কমিটির দুই নেতা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।এ কমিটি বিলুপ্ত করে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হলে শহরের শৃঙ্খলা অনেকটা ফিরে আসবে বলেও দাবি বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর।

এ বিষয়ে বটতলী বাজার ইজারাদার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সড়কে দোকান বসাতে বলিনি। বারবার সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছি। বিভিন্ন কমিটির নামে টাকা উত্তোলন করা হয় কিন্তুু আমরা বৈধ ইজারাদার হয়েও টাকা উত্তোলনে বাধাঁ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির সদস্য রিদোয়ানুল কবির এরফান বলেন,শহর পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বাবদ রশিদের মাধ্যমে দৈনিক চাঁদা নেয়া হয়।এর বাইরে রশিদবিহীন টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।

স্হানীয় রাজনীতিবিদ মুসলিম উদ্দীন বলেন,সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা এসব অবৈধ দোকানের কারনে বটতলীতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে।তাছাড়া এ বাজারকে ঘিরে চলে ওপেন চাঁদাবাজি।এমন ও ঘটনা ঘটেছে একজন দরিদ্র কৃষক যে টাকার সব্জি বিক্রি করেছেন সে পরিমান টাকা চাঁদা দিয়ে চোখের জ্বল বিসর্জন দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।তাই সড়কে শৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি বন্ধে অচিরেই ব্যবস্হা নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,এসব অবৈধ দোকান বন্ধে উপজেলা প্রশাসন সড়ক ও জনপদ বিভাগকে নিয়ে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।স্হায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে । চাঁদাবাজির বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনী করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করবেন বলে ও জানান তিনি।