শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান, দেশের জুড়ে লাগাতার কর্মবিরতি!

আজাদ নিউজ ২৪
সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রতিবাদে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে লাগাতার কর্মবিরতি।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের একাংশ রোববার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

সকাল থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা ১১টার দিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক সেখানে জড়ো হন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি পলিথিন ও মাদুর বিছিয়ে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবস্থান নেন।

শিক্ষকরা স্লোগান দেন— “আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে”, “২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করো।” এ সময় তারা প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের জলকামান ও লাঠিচার্জের ঘটনার বিচার দাবি করেন।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা সুবিচার চাই। আমাদের তিন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। অবিলম্বে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও ১ হাজার ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতার প্রজ্ঞাপন দিতে হবে।”

রাজধানীর একাধিক স্কুল-কলেজে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৯টার দিকে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করছেন সবাই।

এর আগে, রোববার শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে সোমবার থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন অধ্যক্ষ আজীজি।

তিনি বলেন, “প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা বাধ্য হয়েছি এই কর্মসূচি নিতে। প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে। এতে পাঁচ শিক্ষক আহত হন। পরে শিক্ষকদের একাংশ শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেন।

সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ, উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ ও চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।