সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে ৪ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ
রিপোর্টার: মোঃ নাঈম বিন রফিক, মংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম জীববৈচিত্র্য ও সম্পদভাণ্ডার। এই বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও ডাকাতদের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। নিরীহ জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, নৌকাডাকাতি ও প্রাণনাশের ভয়ে মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ আহরণ অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জাহাঙ্গীর বাহিনী শিবসা নদী সংলগ্ন বাওনি খালী এলাকায় কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে এবং মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
এই সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড টেস্ট মংলা আউটপোস্ট কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শুরু হলে কোস্টগার্ড সদস্যরা ডাকাতদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। কিন্তু আত্মসমর্পণের পরিবর্তে ডাকাতরা কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। কোস্টগার্ড পাল্টা অবস্থান নিলে ডাকাত দল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে নিজেদের ব্যবহৃত নৌকা ও জিম্মিদের ফেলে বনাঞ্চলের গভীরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে অভিযানিক দল ডাকাতদের ফেলে যাওয়া নৌকা তল্লাশি করে একটি একনলা বন্দুক, দুইটি এয়ারগান এবং তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করে। পাশাপাশি জিম্মি অবস্থায় থাকা চারজন জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা গত দশ দিন ধরে তাদের জিম্মি করে রেখেছিল। এ সময় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, এমনকি প্রয়োজনে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঠিক জোগানও দেওয়া হয়নি। ফলে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দেশের সাগর উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবন এলাকায় যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জলদস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে তাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনের জেলে, বনজীবী ও সাধারণ জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে এবং এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে কোস্টগার্ডের এই অভিযানে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতদের ভয়ে যারা নদী ও বনে কাজ করতে সাহস পেতেন না, তারাও এখন নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।