উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্যে উৎসবের আমেজে রাজশাহী; কুমারী পূজায় মাতৃরূপে অধরা দাস

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

উলুধ্বনি, শঙ্খসুর আর ঢাকের তালে তালে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মহাঅষ্টমীর উচ্ছ্বাস। সকাল থেকেই রাজশাহীর মন্দির-মণ্ডপগুলো সেজেছে আলোকসজ্জা আর ফুলের রঙিন সাজে। ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি পূজামণ্ডপ। দেবীর অলঙ্কারভূষিত প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা করেছেন প্রার্থনা, ভোগ নিবেদন আর অর্ঘ্যদান। অষ্টমীর দিনে দেবীকে গৌরীরূপে পূজা করার ঐতিহ্যকে ঘিরে ভক্তদের আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সকাল ১১টার দিকে নগরীর ত্রিনয়নী ও টাইগার মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। ছোট্ট অধরা দাস—কুমারপাড়ার অরূপ রতন দাস ও ঝিলিক দাসের একমাত্র কন্যা, ছয় বছরের শিশু শ্রেণির ছাত্রী—সেদিন দেবীর প্রতিরূপ হয়ে বসেন সবার মাঝে। স্নান করিয়ে, সাদা পোশাকে অলঙ্কারভূষিত করে অধরাকে মাতৃরূপে পূজা করা হয়। ফুল, চন্দন, ধূপ-ধুনো আর প্রসাদে মণ্ডপভর্তি হয়ে ওঠে দেবীর আবাহনে। ভক্তরা সেদিন শুধু নিজেদের নয়, বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।

অষ্টমীর দিনে নগরজুড়ে ছিল উৎসবের ব্যস্ততা। আত্মীয়ের বাড়ি ভোগ গ্রহণ, মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দর্শন আর আড্ডায় আনন্দমুখর সময় কাটান হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

উৎসবমুখর এ দিনে নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রার্থনায় অংশ নিয়ে তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রশংসা করেন।

পাশাপাশি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান সকাল থেকে মণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক কমিটির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ উৎসব নিশ্চিতে নগরীর ১০২টি মণ্ডপে সাড়ে ৯০০ পুলিশ সদস্য দিন-রাত কাজ করছেন। প্রতিটি মণ্ডপই রয়েছে সিসিটিভি নজরদারির আওতায়।

তিনি আরও জানান, “প্রতিবারের মতো এবারও নগরীর মুন্নুজান স্কুল সংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যানজট ও শৃঙ্খলার কথা ভেবে পুলিশ লাইন সংলগ্ন নদীর ঘাট ও আই বাঁধ এলাকায় অতিরিক্ত বিসর্জনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।”

রঙিন সাজ, ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মহাঅষ্টমীর দিন রাজশাহী নগরী যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো পূজার নগরী।