২১ দিনেও অপরাধী চিহিৃত হয়নি
আত্তায়ী কুপিয়ে জখম করা প্রবাসী মৃত্যুর সাথে লড়ছে
অভিযোগের তীর স্ত্রীর দিকে

গোলাম মহিউদ্দিন নসু, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

চৌদ্দ বছর ধরে প্রবাস খাটা এক রেমিটেন্স যোদ্ধা গভীর রাতে আত্তায়ীর হাতে মারাত্বক আহত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতলে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে।মাথার ডান অংশে অন্তত ৭-৮টা দা/ কুরােেলর কোপের মারাত্বক ক্ষত নিয়ে মৃত্যুর বিছানায় কাতরাচ্ছে।ছেলের বউকে আসামী করে আহতের বাবা আতিক উদ্দিন ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জ থানায় জিআর মামলা নং ২৪৭/২০২৫ দাখিল করে। ঘটনার ২১ দিন পরেও দায়ী ব্যক্তিদের এখনো চিহিৃত করা যায়নি।অবশ্য এ ঘটনায় সন্দেহ জনক ভাবে তাৎক্ষনিক তার স্ত্রী শেলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।পরে রিমান্ডে নিয়েও কোন তথ্য ফেল কিনা বাদী পক্ষকে পুলিশ জানায়নি বলে তাদের দাবি।
ডাঃ নেয়ামূল বারি রাজিব জানালেন,তার মাথায় উর্পযুপুরি কয়েকটি কোপ দেয়া হয়েছে।তার মাথার খুলি কেটে গেছে। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করে মাথায় সেলাই করা হয়েছে। বর্তমানে মাথার চামড়ায় ক্ষত(ইনপেকশান)হওয়ার কারনে ছামড়া ফেলে দিতে হয়েছে।ফলে ব্রেন ওপেন হয়ে গেছে।কথা শুনেও না বলেও না।একেবারেই আশংকা জনকপর্যায়ে আছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেমগঞ্জ থানার এসআই শাহারিয়ার কালাম বললেন, মামলায় আসামী করা হয়েছে তার স্ত্রী সাহিদা আক্তার শেলীকে।ঘটনার দিনেই পুলিশ তাকে আটক করে।পরবর্তীতে তদন্তের প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।মামলার প্রয়োজনে তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছৃুই বলবেন না বলে জানান।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মুজাহিদপুর জব্বার ডাক্তারের বাড়ীতে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।আহত নাসির উদ্দিন রাসেল(৩৫) ডুবাই প্রবাসী ,চাকুরীজীবি।রাসেলের ৫ বছরের একটি ছেলে ও আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।
রাসেলের ভাই মহসীন জানায়, ২০১১ সাল থেকে রাসেল বিদেশ থাকে। প্রায় ৭ বছর আগে বজরার আফানিয়া গ্রামের একম ধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শাহিদা আক্তার শেলীকে বিয়ে করে।বিয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যে ছুটিতে দেশে আসা-যাওয়া করে।দেশে- বিদেশে থাকা কালে রাসেল তার স্ত্রীর চারিত্রিক বিষয়ে নানা আপত্তিজনক কথা শুনেন। পাশ্ববর্তী বাড়ীর আরিফ নামের এক ছেলের সাথে তার অবৈধ সম্পর্কের কথা বার্তা শুনে স্ত্রীকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্ত স্বজন মুরুব্বীদের অনুরোধ এবং ¯ত্রী দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে আবার সংসার শুরু করে। সম্প্রতি রাসেলের অনুপস্থিতি ফরহাদ নামের এক ছেলেসহ একাধিক জনের সাথে ফোনে কথাবার্তা বলে ওমাঝে মধ্যেবাহিরে যাওয়া আসা করত। এ নিয়ে রাসেল বা তার পরিবারের সাথে শেলীর প্রায়ই ঝগড়া হতো।রাসেলের স্ত্রী বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ১৮-১৯ লাখ টাকা এবং বিভিন্œ সময়ে রাসেলের পাঠানো প্রায় ২০লাখ টাকা আত্বসাৎ করেছে।
আহত হওয়ার ঘটনার ২/৩ মাস আগে রাসেল দেশে আসে।স্বস্ত্রীক শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতেও যায়। দূর্ঘটনার দিন ৬ সেপ্টেম্বর সে শ্বশুর বাড়ী থেকে স্ত্রীসহ নিজ বাড়ীতে আসে।রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন ভোরে ফজরের নামাজের জন্য রাসেলের মা ডাকতে গিয়ে দেখে স্ত্রী শেলী কাঁদছে। শ্বশুড়ীকে বলছে ঘরে ডাকাত ডুকে রাসেলকে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে গেছে।স্ত্রী শেলীর কথা সাজানো বলে মনে করে ।ঘরে ডুকে দেখে আহত রাসেল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে,মাথা থেকে রক্তের স্রোত বইছে।তার শোর চিৎকারে অন্যরা এসে রাসেলকে মুমূর্ষ অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিলে, ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়।বর্তমানে রাসেল আশংকা জনক অবস্থায়একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। রাসেলের পরিবারের দাবী পরক্রিয়া প্রেমিকদের পরামর্শে স্ত্রী শেলীই রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছে।#