ফরিদপুরে ভুল চিকিৎসায় নববধূর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম!

এস এম আলমগীর হুসাইন:স্টাফ রিপোর্টার;

বিয়ের মাত্র ছয় মাসও হয়নি। স্বপ্নে ভরা সংসারও ঠিক মতো শুরু হয়নি। এর মধ্যেই অকাল মৃত্যু কেড়ে নিল লামিয়া আক্তারকে (২২)। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার এ তরুণী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন—অন্তহীন শোক আর ক্ষোভের স্রোত বইয়ে দিয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর সদরের পরিচিত হাসপাতাল আরোগ্য সদন হসপিটালে। গত ২০ সেপ্টেম্বর পেটব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন লামিয়া। চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রতন কুমার সাহা জানান, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে, অপারেশন ছাড়া উপায় নেই। শনিবার রাতে অস্ত্রোপচারও হয়।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই লামিয়ার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তড়িঘড়ি করে তাকে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লামিয়ার পরিবার অভিযোগ করছে—ডা. রতন কুমার সাহা নিজে অস্ত্রোপচার না করে সহকারীদের দিয়ে অপারেশন করিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “অতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়া আর অবহেলার কারণেই আমাদের মেয়েটা মারা গেছে।”

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, অপারেশনে ডা. রতন কুমার উপস্থিত ছিলেন এবং এটি ছিল জটিল কেস। তাদের মতে, অতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়াই মৃত্যুর মূল কারণ।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লামিয়ার অকাল মৃত্যুর খবরে চরভদ্রাসনের গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামী, বাবা-মা, স্বজন—কেউই মানতে পারছেন না এ মৃত্যু। গ্রামের মানুষের একটাই প্রশ্ন, “ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে কি এভাবে তরুণ প্রাণ ঝরে যাবে বারবার?”