১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশে পুঁতে রাখার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

  • অনলাইন ডেস্ক:
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৪৭ জন পড়েছেন

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশে পুঁতে রাখার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

অনলাইন ডেস্ক:
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশেই মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে নিহতের বাড়ির রান্নাঘর সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত কৃষকের নাম হারুন হাওলাদার (৫৯)। তিনি চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী হারুন হাওলাদারকে হত্যা করে মরদেহ গোপন রাখার পর নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন সেলিনা বেগম। গত শুক্রবার রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সেলিনা বেগম দাবি করে আসছিলেন যে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সেলিনা বেগম তার ছেলে জাফর হাওলাদারকে দিয়ে গত শনিবার রাতে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করান। ওই মামলায় তিনি নিজেই প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
এদিকে, শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী জানান, শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম নিজেই তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার শুরু করেন। তবে শুরু থেকেই তার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝে নতুন করে কাদামাটি দিয়ে লেপে দেন, যা স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হয়।
তিনি আরও জানান, একজন নিরীহ কৃষকের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরের পাশে নতুন করে খোঁড়া মাটি এবং সেখানে মানুষের আঙুল সদৃশ কিছু দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

৪৭ তম বিসিএসে ক্যাডার সুপারিশ প্রাপ্ত হলে বাঞ্ছারামপুরের মেয়ে মিতু

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশে পুঁতে রাখার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশে পুঁতে রাখার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

অনলাইন ডেস্ক:
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক কৃষককে হত্যা করে ঘরের পাশেই মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে নিহতের বাড়ির রান্নাঘর সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত কৃষকের নাম হারুন হাওলাদার (৫৯)। তিনি চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী হারুন হাওলাদারকে হত্যা করে মরদেহ গোপন রাখার পর নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন সেলিনা বেগম। গত শুক্রবার রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সেলিনা বেগম দাবি করে আসছিলেন যে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সেলিনা বেগম তার ছেলে জাফর হাওলাদারকে দিয়ে গত শনিবার রাতে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করান। ওই মামলায় তিনি নিজেই প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
এদিকে, শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী জানান, শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম নিজেই তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার শুরু করেন। তবে শুরু থেকেই তার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝে নতুন করে কাদামাটি দিয়ে লেপে দেন, যা স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হয়।
তিনি আরও জানান, একজন নিরীহ কৃষকের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরের পাশে নতুন করে খোঁড়া মাটি এবং সেখানে মানুষের আঙুল সদৃশ কিছু দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।