হোমনা পৌর মহাশ্মশানে শ্রী শ্রী বাসন্তী
দেবীর বিজয়া দশমী সম্পন্ন।
দিপক চন্দ্র দেব, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার হোমনা উপজেলা পৌর মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত হলো শ্রী শ্রী বাসন্তী দেবীর বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় ও বাসন্তী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
গতকাল শনিবার বিকেলে হোমনা পৌর মহাশ্মশান সংলগ্ন ঘাটে ধর্মীয় রীতি মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাসন্তী দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, সিঁদুর খেলা এবং আরতির মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। উলুধ্বনি আর শঙ্খের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মহাশ্মশান এলাকা।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী। বিসর্জন উপলক্ষ্যে পৌর এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মহাশ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাসন্তী পূজা উদযাপিত হয়েছে। বাসন্তী দেবীর এই আরাধনা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের জয়ের প্রতীক। তারা আরও বলেন, “আমরা প্রার্থনা করি মা যেন সারা বিশ্বের সকল মানুষের মাঝে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনেন।”
বিসর্জনের সময় তিতাস নদীর পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ঢাকের বাদ্য আর ‘বলো দুর্গা মাই কি জয়’ ধ্বনিতে বিষাদমাখা এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিমা বিসর্জনের পর ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসবের ইতি টানেন।
উল্লেখ্য, চৈত্র মাসের এই বাসন্তী পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হোমনা পৌর মহাশ্মশানের এই উৎসবটি এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে।#
আজাদ নিউজ ২৪ ডেক্স 










